নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩:১৩, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
সহিংসতা মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের পদত্যাগ দাবি করেছেন বামপন্থি ও কট্টর ডানপন্থি রাজনীতিকেরা। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন সরকারি ভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি বাসস্টপ ভাঙচুর এবং সড়কে ব্যারিকেড স্থাপন করেন। এ সময় বিভিন্ন দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
এমন পরিস্থিতিতে রোববার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ফ্রান্সে সহিংসতার কোনো স্থান নেই।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবারের বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশ ও প্রশাসনকে একাধিক পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছে। একদিকে বড় শহরগুলোতে হাজার হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশ নেন, অন্যদিকে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, প্রবীণ ও শ্রমজীবী মানুষের দাবির মধ্যে ছিল জরাজীর্ণ স্কুল সংস্কার, আরও শিক্ষক নিয়োগ এবং জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি মোকাবিলা। সরকারি সেবায় বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিতে তাঁরা ব্যানার নিয়ে মিছিল করেন। তাঁদের অভিযোগ, সরকার সাধারণ মানুষের কথা শুনছে না।
চার সপ্তাহ ধরে চলা মিছিল ও স্কুলে ব্যারিকেড কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় এসব বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। তবে এর বাইরে বিভিন্ন গোষ্ঠী বিচ্ছিন্নভাবে জড়ো হয়ে রাস্তায় আগুন জ্বালায়, ব্যারিকেড স্থাপন করে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। প্যারিস, বোর্দো, নিস ও মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে এসব ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিক্ষোভের মধ্যে মুখোশধারী লুটেরারাও বিশৃঙ্খলার সুযোগ নেয়। তারা বিভিন্ন দোকানের কাচ ভেঙে পণ্য লুট করে।
সব মিলিয়ে ফ্রান্সের সরকারকে এখন একদিকে শিক্ষা ও সরকারি সেবায় বরাদ্দের দাবিসহ জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে জনঅসন্তোষ মোকাবিলা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জও সামলাতে হচ্ছে।