আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০:২১, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার (১৭ অক্টোবর) পশ্চিম তীরের তাইয়েবা গ্রামের কাছে এ ঘটনা ঘটে। ফিলিস্তিনি কৃষকদের জলপাই সংগ্রহ কার্যক্রম দেখতে সেখানে গিয়েছিল প্রতিনিধিদলটি। এ সময় বসতি স্থাপনকারীরা তাদের ওপর চড়াও হয়। এর আগের দিন রামাল্লার উত্তরে এক মার্কিন সাংবাদিকের ওপরও হামলা চালায় ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা।
বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভো হামলার তথ্য জানিয়ে বলেন, ফ্রান্সের এক মেয়রকে মারধর করা হয়েছে এবং বেলজিয়ামের একটি গাড়ি ভাঙচুর
করা হয়েছে। ইসরাইলের ‘অবৈধ বসতি স্থাপন নীতির’ সঙ্গে এ হামলার যোগসূত্র রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ঘটনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য কাজ করারও অঙ্গীকার করেন বেলজিয়ামের এই মন্ত্রী।
হামলার শিকার ফরাসি মেয়র বার্নার্ড বোদু এএফপিকে বলেন, এ ঘটনা থেকে বোঝা যায়, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার প্রতি ইসরাইল সরকারের একধরনের সহনশীলতা রয়েছে।
ঘটনাস্থলে থাকা এক কর্মী অ্যামিত ওরফালির প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, হামলার পর বোদু ধুলোমাখা মাটিতে বসে একটি গাড়ির গায়ে হেলান দিয়ে আছেন। অন্য ভিডিওতে মুখোশ পরা কয়েকজন তরুণকে গাড়ির চালকের পাশের জানালায় বারবার আঘাত করতে এবং পরিচয় জানতে চাইতে দেখা যায়। দূরে লাঠি হাতে আরও কয়েকজন মুখোশধারীকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়।
অ্যামিত ওরফালি বলেন, মুখোশধারীরা তাদের হত্যার হুমকি দিয়েছিল।
এ ঘটনার পর ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো ইসরাইলের প্রতি হামলায় জড়িত ‘চরমপন্থি বসতি স্থাপনকারীদের’ গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘এই অপরাধমূলক সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এটি করা তাদের বাধ্যবাধকতা।’
আল জাজিরার রামাল্লা প্রতিনিধি নুর ওদেহ জানান, হামলার আগে বসতি স্থাপনকারীরা কূটনীতিকদের গাড়ি ঘিরে ফেলে। পরে গাড়িগুলো লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে এবং জানালা ভেঙে দেয়।
এ ঘটনায় ইসরাইলি পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। বেলজিয়ামও হামলার নিন্দা জানিয়েছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস হামলার মধ্যে ফিলিস্তিনি কৃষকদের জলপাই সংগ্রহ কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
তবে ইউরোপীয় প্রতিনিধিদলের ওপর হামলার খবর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ঘটনাটিকে ‘অভিযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করে এর পক্ষে ‘জোরালো প্রমাণ’ দাবি করা হয়েছে। যদিও হামলার ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে কার্যালয়টি।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা