শেয়ারবিজনেস ডেস্ক
প্রকাশ: ২০:৩৩, ২১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২০:৩৫, ২১ অক্টোবর ২০২৬
এর আগে মঙ্গলবার মানিলন্ডারিং আইনের একটি মামলায় দিলীপ আগরওয়ালার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। ওই মামলায় রিমান্ড শেষে বুধবার হত্যাচেষ্টা মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক মো. সুমন মিয়া। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, দিলীপ আগরওয়ালা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য এবং চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ছিলেন। মামলার ঘটনায় অন্য আসামিদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
মামলার প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সময় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী আনোয়ারুল কবীর বাবুলসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। তাঁরা আদালতকে জানান, দিলীপ আগরওয়ালা শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং তাঁর হৃদ্রোগের সমস্যা রয়েছে। ঘটনার সময় তিনি বিদেশে ছিলেন বলেও দাবি করেন তাঁরা। পাশাপাশি, তাঁকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে দাবি করে আসামিপক্ষ।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিএনএস সেন্টারের সামনে গুলিবিদ্ধ হন আ. জব্বার। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ওই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
চিকিৎসা শেষে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ আ. জব্বার উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়।
স্বর্ণ ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা, জালিয়াতি এবং অর্থপাচারের অভিযোগে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন র্যাব দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে। ওই দিন রাতে গুলশানে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের কার্যালয় ঘিরে অভিযান চালানো হয়েছিল।
পরে ঢাকার বাড্ডায় হৃদয় আহমেদ নামে এক কিশোরকে হত্যার মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মামলায় নিম্ন ও উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর তিনি কারামুক্ত হন।
বর্তমানে আ. জব্বারকে হত্যাচেষ্টার মামলায় চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে তাঁর দায় নির্ধারিত হবে।