নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯:৪০, ২০ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৪৫, ২০ অক্টোবর ২০২৬
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে শুরু হওয়া এ অভিযান মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত চলে। অভিযানের পর আলোচনায় উঠে এসেছেন পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির।
বাংলাদেশ পুলিশের সদর দফতরের কর্মকর্তাদের তালিকা অনুযায়ী, আবদুল্লাহ আল জহির বিপিএম, পিপিএম (বার) পদকপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তিনি পুলিশ সদর দফতরের পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট-২ শাখায় এআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত। পুলিশ সদর দফতরের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি এ পদে যোগ দেন।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি বিসিএস ২৪তম ব্যাচের পুলিশ কর্মকর্তা। এর আগে সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মোখলেসুর রহমানের স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিবি সূত্র ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজধানীর ভাটারা থানার পুলিশ হাউজিং-১ এলাকার আড়াইতলা একটি বাড়িতে মাদক সেবন ও ডিজে পার্টি আয়োজনের অভিযোগে অভিযান চালানো হয়। বাড়িটি স্বল্পমেয়াদি আবাসন ভাড়ার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবির মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, অভিযানে ২৬ জন নারী ও ৫৮ জন পুরুষকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আফগানিস্তানের নাগরিকও রয়েছেন। বাড়িটি থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে ডিবি।
গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার ইলিয়াস কবিরের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বাড়িটি পরিচালনার সঙ্গে একজন হোস্ট ও একজন কো-হোস্ট যুক্ত ছিলেন। কো-হোস্ট মাহবুবুল আলমকেও আটক করা হয়েছে।
ডিবির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার ইলিয়াস কবিরের বক্তব্য উদ্ধৃত করে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বাড়িটি ভাড়া দেওয়া হলেও সেখান থেকে অর্জিত আয়ের ৭০ শতাংশ আবদুল্লাহ আল জহির পেতেন। তবে এ আয়ের হিসাব, ভাড়ার চুক্তি এবং বাড়িটি পরিচালনায় তার ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত নথি প্রকাশ্যে আসেনি।
এ ছাড়া, আটক কো-হোস্টকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ডিআইজি তদবির করেছিলেন বলে ডিবির একটি সূত্রের বরাতে একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাড়িতে ডিবির অভিযান ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে আবদুল্লাহ আল জহিরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি বলে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বাড়িটি ভাড়া দেওয়ার শর্ত, পরিচালনাকারীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং সেখানে সংঘটিত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তার ব্যাখ্যা এখনো জানা যায়নি।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, আবদুল্লাহ আল জহিরের পরিচয় ও কর্মস্থল নিশ্চিত হলেও বাড়িতে মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তার ব্যক্তিগত দায় নির্ধারণের জন্য তদন্তের ফল ও সংশ্লিষ্ট নথি গুরুত্বপূর্ণ। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন।