নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২:০৩, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন বিভাগের উদ্যোগে এবং জেনেরাস কোম্পানি লিমিটেডের সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মশালায় সহায়তা দিয়েছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনসেবার মানোন্নয়ন, চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা জোরদার করা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ শাকুর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, শারীরিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. তসলিম উদ্দিন, পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রের (সিআরপি) প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক ড. ভ্যালেরি এ টেলর এবং জাইকা বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি মরিকাওয়া ইয়োকো।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শারীরিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম এ কে আজাদ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী। কর্মশালার সঞ্চালনা করেন আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. নাদিম কামাল।
কর্মশালায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র (সিআরপি), কন্টিনেন্টাল হাসপাতাল, আইচি হেলথকেয়ার গ্রুপ এবং জেনেরাস কোম্পানি লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মশালায় উদ্বোধনী অধিবেশন, গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়মূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এসব কার্যক্রমে স্নায়বিক রোগীদের পুনর্বাসনসেবার বিদ্যমান পরিস্থিতি, চিকিৎসাপদ্ধতির উন্নয়নের সুযোগ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আয়োজকদের মতে, স্ট্রোক, মেরুরজ্জুতে আঘাত এবং মস্তিষ্কে আঘাতসহ বিভিন্ন স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা, স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে পুনর্বাসনসেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যথাযথ পুনর্বাসন রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা অর্জন এবং সামাজিক জীবনে পুনরায় সম্পৃক্ত হতেও সহায়তা করে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ কর্মশালার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ বাড়বে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পেশাগত সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং বাংলাদেশে আধুনিক, সমন্বিত ও রোগীকেন্দ্রিক পুনর্বাসনসেবা সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।