চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫:২৩, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় সারের কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। সভায় অংশ নেওয়া জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতা ও সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, ভরা মৌসুমে ডিলারদের কাছে ন্যায্য মূল্যের সরকারি সার মিলছে না। অথচ দ্বিগুণ দামে ঠিকই খোলাবাজার বা কালোবাজার থেকে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকরা।
উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুলহাস হোসেন সৌরভ। এতে বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, চরভদ্রাসনের চর হরিরামপুর ও গাজীরটেক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় এবার ভুট্টার ব্যাপক আবাদ হয়েছে। কিন্তু এই ভরা মৌসুমে সার না পেয়ে কৃষকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ১ হাজার ৫০ টাকা মূল্যের সরকারি নির্ধারিত সার বাধ্য হয়ে ১ হাজার ৮৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে কৃষকদের। ফলে ফসলের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় চরম লোকসানের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, সরকারের ভর্তুকির সার আসলে কোথায় যাচ্ছে?
অভিযোগের জবাবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন, “ডিলারদের অনুকূলে নির্দিষ্ট মাসিক বরাদ্দ রয়েছে, এর বাইরে অতিরিক্ত সার দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।” তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “নির্ধারিত দামের বেশি নেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কৃষি কর্মকর্তার এমন বক্তব্যের পর সাংবাদিক আব্দুস সালাম মোল্লা প্রশ্ন রেখে বলেন, “ডিলারের দোকানে সার নেই অথচ অতিরিক্ত টাকা দিলেই ঠিকই বাড়িতে সার পৌঁছে যাচ্ছে! এই অবৈধ মজুতদারির সার আসছে কোত্থেকে? মধ্যস্বত্বভোগী ও কালোবাজারিরা লাভবান হলে সরকারের ভর্তুকির মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।”
সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিপ্লব হোসেন নাঈম, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ, উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক মো. ওহিদুজ্জামান মোল্লা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এজিএম বাদল আমিন এবং বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহজাহান শিকদার।
এ সময় সাংবাদিকরা অবিলম্বে বাজার মনিটরিং জোরদার এবং সার কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানান।
সভায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের কঠোর নজরদারির আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জুলহাস হোসেন সৌরভ।