মাঈনুল হাসান খান
প্রকাশ: ১৩:০৯, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
মোয়াজ্জেম হোসেন যেন এক জীবন্ত সুবিধাবাদী চরিত্রের নাম। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ডিও লেটার ও দলীয় শীর্ষ নেতাদের ছাতার নিচে থেকে তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের মতো অতি সংবেদনশীল স্থানে নিজের আসন পাকাপোক্ত করেছিলেন। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-১ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে নেমে জালভোট প্রদানে সহায়তা করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। কিন্তু আসল নাটক শুরু হয় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর! মুহূর্তেই পুরনো খোলস বদলে নিজেকে কট্টর বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে জাহির করতে শুরু করেন এই ধূর্ত চাটুকার। রাজনৈতিক পরিচয় পাল্টে নতুন কৌশলে সিন্ডিকেট টিকিয়ে রেখে দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছেন সরকারি অর্থ লুণ্ঠন।
তাঁর অনিয়মের খাতাটি বেশ পুরোনো ও ভারী। ২০০৯, ২০১১ ও ২০১২ সালের সরকারি নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়—চাকরিতে অসদাচরণ, অর্থ আত্মসাৎ এবং অর্থঋণ আদালতের মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও অদৃশ্য শক্তির জোরে বারবার বেঁচে গেছেন তিনি। ঢাকার বুকে নামে-বেনামে অঢেল অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ার পাশাপাশি বিদেশে অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তাঁর মাথায়।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোয়াজ্জেম হোসেন ফোন রিসিভ রিসিভ করেন নি।
পরিবেশবান্ধব সরকারি প্রকল্পে এমন নগ্ন দুর্নীতি ও রাতারাতি দল বদলানোর এই প্রতারণায় ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ। সচেতন মহলের পরিষ্কার দাবি, শুধু বদলিতে কাজ হবে না; অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের মূল উৎপাটন করতে হবে, দুদক ও মন্ত্রণালয়ের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সব অর্থ উদ্ধার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
দর্শক পরবর্তী পর্বে থাকছে আরও বিস্তারিত, চোখ রাখুন দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনে,,