ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশ: ২২:৪১, ১২ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২২:৪৪, ১২ অক্টোবর ২০২৬
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় অনৈতিক সম্পর্কের অপবাদ দিয়ে এক গৃহবধূ ও এক যুবককে গরুর রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের একপর্যায়ে গৃহবধূর চুল কেটে দেওয়া হয়। এ সময় মারধরে যুবকটি অচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চর কৃষ্ণপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রবাসী রাজিব বেপারী, তাঁর বাবা সোরহাব বেপারী এবং স্থানীয় বাসিন্দা রনি বেপারীর মধ্যে আগে থেকেই পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক ছিল। সেই সুবাদে রনি বেপারী ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন। পরবর্তী সময়ে পারিবারিক বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে স্থানীয় জিন্নাত বেপারী, তাঁর বাবা বারেক বেপারীসহ কয়েকজন ওই নারী ও যুবককে আটকে রেখে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের অভিযোগ, অনৈতিক সম্পর্কের অপবাদ দিয়ে গৃহবধূ মুক্তা ও রনি বেপারীকে গরুর রশি দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে গৃহবধূর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। মারধরের একপর্যায়ে রনি বেপারী অচেতন হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। তবে তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। লিখিত অভিযোগ বা এজাহার পাওয়া গেলে তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।