আসিফ বিল্লাহ, সিলেট
প্রকাশ: ২২:০৩, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
সিলেট সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের নির্মাণকাজ আগামী ১৫ মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি। একই সঙ্গে সিলেটকে দেশের অন্যতম প্রধান সবজি উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্রে পরিণত করতে কৃষির আধুনিকায়ন, উন্নত সংরক্ষণব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষিপণ্য রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সিলেটে পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সিলেট সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ ও জনসংখ্যার চাপে অগ্নিনিরাপত্তা এবং জরুরি সেবার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার পাশাপাশি সেবার মান ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়নের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। সরকারি সেবার প্রক্রিয়া সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করা এবং বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী ওয়াসিফ আহমদ।
এর আগে সিলেট সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ‘ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমার্জেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় ভর্তুকিমূল্যে কৃষিযন্ত্র (ট্রাক্টর) ও বিনামূল্যে এলএলপি বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
এ সময় তিনি বলেন, কৃষির আধুনিকায়ন, পরিকল্পিত সবজি উৎপাদন এবং উন্নত সংরক্ষণ ও সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে সিলেটকে দেশের অন্যতম প্রধান সবজি উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সিলেট বিমানবন্দর এলাকায় আধুনিক প্যাকেজিং হাউস ও কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীদের কাছে সিলেটের শাকসবজি পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করতে হলে উৎপাদনের পাশাপাশি পণ্যের মান, প্যাকেজিং, সংরক্ষণ ও সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।
তিনি আরও বলেন, সিলেট সদর উপজেলার প্রতিটি কৃষিজমি সারা বছর চাষাবাদের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। পানির অভাব ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক জমি অনাবাদি পড়ে থাকে। এসব সমস্যা সমাধানে খাল খননসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে সেচের পানির প্রাপ্যতা বাড়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা কমবে এবং চাষযোগ্য জমির পরিমাণ বাড়বে।
কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, সরকারি ভর্তুকিতে পাওয়া কৃষিযন্ত্র যথাযথভাবে কৃষিকাজে ব্যবহার করতে হবে। ভর্তুকির অপব্যবহার রোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সিলেটের কোন অঞ্চলে কোন মৌসুমে কী ধরনের সবজি বেশি উৎপাদিত হয়, তা চিহ্নিত করে উৎপাদন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, মৌসুমভিত্তিক পরিকল্পিত উৎপাদনের মাধ্যমে বছরজুড়ে সবজির সরবরাহ বজায় রাখার পাশাপাশি রপ্তানিও বাড়ানো সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াৎ, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন এবং সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব সিদ্দিকুর রহমান পাপলু।
এ সময় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মন্ত্রী সিলেট সদর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পানি বিশুদ্ধকরণ ফিল্টার বিতরণ করেন।