মোঃ দিদারুল ইসলাম, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১৮:২৪, ১ নভেম্বর ২০২৬
দুই হাত হারিয়েও থেমে যায়নি স্বপ্নজয়ের অদম্য লড়াই। পা দিয়ে লিখেই এসএসসির পর এবার এইচএসসি পরীক্ষাতেও জিপিএ-৫ অর্জন করেছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের রফিকুল ইসলাম রাব্বি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে তার এই অসাধারণ সাফল্যে আনন্দিত পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
রাব্বি চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। গতকাল শনিবার প্রকাশিত ফলাফলে জিপিএ-৫ পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে তাকে অভিনন্দন জানান স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
এর আগে এসএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ অর্জন করেছিল রাব্বি। দুই হাত না থাকায় পরীক্ষাকেন্দ্রে তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়েছিল। সমান উচ্চতার দুটি বেঞ্চ পাশাপাশি বসিয়ে তার ওপর বসে পা দিয়ে লিখে পরীক্ষা দেয় সে। সেই পরীক্ষায়ও মেধার স্বাক্ষর রাখে রাব্বি।
তবে তার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম ও কঠোর অধ্যবসায়। ২০১৮ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় মুখে কলম ধরে লিখে জিপিএ-৪ দশমিক ৮৩ পেয়েছিল সে। পরে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকে ধীরে ধীরে পা দিয়ে লেখার অভ্যাস গড়ে তোলে। এরপর থেকে সব শ্রেণির পরীক্ষায় পা দিয়েই লিখেছে রাব্বি।
তার জীবনে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর। তখন সে ভাটিয়ারী হাজী টিএসসি উচ্চবিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ওই দিন বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভাটিয়ারী ফুটওভারব্রিজ পার হওয়ার সময় বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয় সে। এতে তার দুই হাত মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়। পরে বিজয় সরণি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের এক শিক্ষার্থী তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা করা সম্ভব হয়নি তার দুই হাত।
দুর্ঘটনার পরও পড়াশোনা থেকে সরে দাঁড়ায়নি রাব্বি। প্রথমে মুখে কলম ধরে লেখার চেষ্টা করে। পরে পা দিয়ে লেখার কৌশল আয়ত্ত করে নেয়। অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে একের পর এক শিক্ষাজীবনের বাধা অতিক্রম করে আজ এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে।
রাব্বির বাবা বজলুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর ছেলের চিকিৎসা ও পড়াশোনা চালিয়ে নিতে বিভিন্ন ব্যক্তি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আইসিডিডিআরবির গবেষক ও চিকিৎসক ফেরদৌসী কাদরী রাব্বির পড়াশোনার ব্যয় বহন করে আসছেন। এছাড়া ওসমান নামের এক শিক্ষক বিনা পারিশ্রমিকে তাকে কোচিং করিয়েছেন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন মানুষের সহযোগিতা ও ছেলের অদম্য মনোবলের কারণে চিকিৎসার পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
দুই হাত হারিয়েও পা দিয়ে লিখে এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জনের মধ্য দিয়ে রাব্বি প্রমাণ করেছে, অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায় থাকলে শারীরিক সীমাবদ্ধতা স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হতে পারে না।