রিয়াজ উদ্দিন, কক্সবাজার
প্রকাশ: ১৮:৪৫, ১ নভেম্বর ২০২৬
কক্সবাজারে শহর সমাজসেবা কার্যক্রম সমন্বয় পরিষদের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিন বছরের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও আয়-ব্যয়ের প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ও শিক্ষাবিদ এম এম সিরাজুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ শাহীন নেওয়াজ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজিয়া আফরিন এবং সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম।
সভায় সাধারণ সম্পাদক সাজিয়া আফরিন তিন বছরের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে জানান, ২০১৬ সালে নিবন্ধন লাভের পর ২০১৭ সাল থেকে সংগঠনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশনসহ বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণে প্রতিটি কোর্সে গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ জন অংশগ্রহণ করেছেন। বর্তমানে সংগঠনের সদস্যসংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৮০০। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবসমাজকে দক্ষ করে তোলা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সংগঠন কাজ করছে।
কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, গত তিন বছরে বর্তমান কমিটি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করেছে। উপযুক্ত কার্যালয়ের ব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সংগঠনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
কক্সবাজার সিটি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাঁর বক্তব্যে বলেন, মানুষের পরিচয়ের চেয়ে তাঁর কাজই সমাজে তাঁকে প্রতিষ্ঠিত করে। মানবিকতা, সততা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সেবায় এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মেধা ও দক্ষতা বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে।
কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক মহিলা কাউন্সিলর হেলেনাজ তাহেরা বলেন, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও মানুষের ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণায় সামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে তিনি নিজের দায়িত্ব মনে করেন।
আজীবন সদস্য জবর মল্লিক বলেন, সংগঠনের অগ্রগতি ও সীমাবদ্ধতা পর্যালোচনা করে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সামনে এগিয়ে যেতে হবে। সাংগঠনিক সম্পাদক আবু জাফর সিদ্দিকী বলেন, প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সামান্য আর্থিক সহযোগিতাও একজন অসহায় মানুষের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথ তৈরি করতে পারে। তাই কর্মসংস্থান সৃষ্টিমূলক উদ্যোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
আজীবন সদস্য আশরাফুল হুদা সিদ্দিকী জামশেদ সংগঠনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নিয়মিত সাধারণ সভা আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি সদস্যপদ, ভোটার তালিকা ও গঠনতন্ত্রের বিষয়গুলো পরিষ্কার করার পাশাপাশি নিজস্ব তহবিল গঠনের আহ্বান জানান।
দৈনিক রূপালী সৈকতের সম্পাদক ও প্রকাশক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল কাদের চৌধুরী তরুণদের দক্ষ ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে কম্পিউটারসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও সংগঠনের আজীবন সদস্য মুহাম্মদ ছৈয়দ করিম বলেন, অসচ্ছল ও অসহায় ব্যক্তিদের বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণের সুযোগ দিতে হবে। দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীলতার পথ তৈরি করা সম্ভব।
সংগঠনের সহ-সভাপতি এসএম কামাল উদ্দিন বলেন, বর্তমান কমিটির উদ্যোগে বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সে উপযুক্ত কার্যালয়ের ব্যবস্থা হয়েছে, যা সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মানবকল্যাণে বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের সেবামূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় সমন্বয় পরিষদও কাজ করে যাচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষাবিদ এম এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, একটি সামাজিক সংগঠনের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে গণতান্ত্রিক চর্চা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা। শহর সমাজসেবা কার্যক্রম সমন্বয় পরিষদ একটি জনকল্যাণমূলক ও অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। এখানে রাজনৈতিক দল, জাতি, ধর্ম, বর্ণ কিংবা লিঙ্গের কোনো ভেদাভেদ নেই। সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করাই সংগঠনের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, সংগঠনের তহবিল ও আমানত যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং পরিকল্পিতভাবে ব্যয় করতে হবে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ, সুনাম ও মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সভায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, আজীবন ও সাধারণ সদস্য, বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সংগঠনের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করা, প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি এবং মানবিক সেবামূলক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।