অবরোধ শিথিলের দিনেই সাজেকে পাল্টা অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

ভবেশ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি

প্রকাশ: ১৮:৪২, ১ নভেম্বর ২০২৬

অবরোধ শিথিলের দিনেই সাজেকে পাল্টা অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

সাজেক সড়কে টানা অবরোধের মধ্যে ১২ ঘণ্টার জন্য কর্মসূচি শিথিলের ঘোষণা দিয়েছিল আন্দোলনকারীরা। তবে অবরোধ শিথিলের নির্ধারিত দিনেই পাল্টা অবরোধ ও পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীরা।

রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সাজেক সড়কে অবরোধ শিথিলের ঘোষণা থাকলেও একই সময়ে পাল্টা অবরোধের ডাক দেয় পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি। পাশাপাশি বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন সাজেক সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও শ্রমিকরা।

অবরোধ চলাকালে খাগড়াছড়ি সদরের মাস্টার দোকান, দীঘিনালা, সুপারি বাগান ও কবাখালীসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ার জ্বালিয়ে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বিন্দু লাল চাকমা এক বিবৃতিতে পাল্টা অবরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কোনো নেতা কথা বলতে রাজি হননি।

স্থানীয় শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাজেক সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। বিভিন্ন সময় অবরোধসহ নানা কর্মসূচির কারণে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তাদের আয় কমে গেছে। এতে আর্থিক সংকটে পড়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দাবি আদায়ে রোববার খাগড়াছড়ি, দীঘিনালা ও সাজেক সড়কে কর্মবিরতি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

এদিকে গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। তাদের অন্যতম দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সন্তু লারমা-সমর্থিত সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে সরিয়ে নিতে হবে। সংগঠন দুটির অভিযোগ, এসব সশস্ত্র সদস্যের কারণে এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে পিসিজেএসএস।

সংগঠনটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমার দাবি, সাজেকে সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও হয়রানির বিষয়টি আড়াল করতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

মূলত পাহাড়ের দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিরতার জেরেই সাজেকে এ অবরোধ চলছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ ও স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনায় রোববার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার জন্য অবরোধ শিথিলের ঘোষণা দিয়েছিল আন্দোলনকারীরা। তবে সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে পুনরায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানান। এতে স্থানীয় মানুষের খাদ্যসামগ্রীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে কর্মসূচি শিথিলের কথা বলা হয়।

এর আগে গত ১১ অক্টোবর প্রথম দফায় অবরোধ শুরু হলে সাজেকে প্রায় দেড় হাজার পর্যটক আটকা পড়েন। পরে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়। দাবি পূরণ না হওয়ার অভিযোগ তুলে ১৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় অবরোধ শুরু হয়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর কর্মসূচি স্থগিত রাখা হলেও ২২ অক্টোবর থেকে তৃতীয় দফায় আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়।

নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক পর্যটন ভ্যালি বন্ধ রেখেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সময় উজো বাজার এলাকায় গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দায়ী করলেও অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংগঠনটি। পরে হামলা, লাঠিপেটা এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের প্রতিবাদে ২৪ অক্টোবর রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে অর্ধদিবস অবরোধ পালন করে ছাত্র জনতার সংগ্রাম পরিষদ।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কায় কিসলু বলেন, ‘খাগড়াছড়ি পরিবহন শ্রমিকদের ডাকে সকাল থেকে সাজেক, দীঘিনালা ও খাগড়াছড়ি সড়কে অবরোধ চলছে। তবে সকাল থেকে কোনো ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন