ছাব্বির হাসান, বগুড়া
প্রকাশ: ১৮:০৬, ৯ আগস্ট ২০২৬
নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—বগুড়ার শেরপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকার আনন্দ সরকারের ছেলে তাপশ সরকার (৩৫) এবং তার ছেলে তীব্র সরকার (১৮)। নিহত অপর ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
দুর্ঘটনায় নূর ইসলাম নামে আরও একজন আহত হয়েছেন। তার বাড়ি দিনাজপুরের বিরামপুর এলাকায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার ভোরে ছিলিমপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে ঢাকাগামী একটি ট্রাকের চাকা বিকল হয়ে যায়। পরে চালক ও সহকারী ট্রাকটির চাকা মেরামতের কাজ করছিলেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রংপুরগামী একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকটির কেবিন দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।
নিহত তাপশ সরকারের শ্যালক নয়ন রায় জানান, ট্রাকটির চাকা নষ্ট হওয়ার পর তাপশ তার ছেলে তীব্রকে চাকা নিয়ে আসতে বলেন। পরে বাবা-ছেলে মিলে ট্রাকের চাকা মেরামতের কাজ শুরু করেন। এ সময় পেছন থেকে একটি ট্রাক এসে তাদের ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়।
বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকের কেবিন পুরোপুরি দুমড়েমুচড়ে যাওয়ায় ভেতর থেকে মরদেহ বের করতে বেশ বেগ পেতে হয়। পরে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুঞ্জুর মোর্শেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করছে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন ও মালামাল সড়ক থেকে সরানোর কাজ চলছে। নিহত তিনজনের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন।