মাগুরা প্রতিনিধি:
প্রকাশ: ২০:৩৭, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের বিদ্যুৎ বিলে এ অস্বাভাবিক অঙ্ক উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী।
বিলের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর মিটারের বর্তমান রিডিং ছিল ৩৯৫ এবং ৮ আগস্টের পূর্ববর্তী রিডিং ছিল ১৬০। অর্থাৎ এক মাসে গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে মাত্র ২৩৫ ইউনিট।
কিন্তু ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিলের ডিমান্ড চার্জের ঘরে দেখানো হয়েছে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট এবং ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বিলের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।
এমনকি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ মোট বকেয়া দেখানো হয়েছে ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা।
অথচ ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের স্বাভাবিক বিল হওয়ার কথা মাত্র ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুলসহ যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ৫৬ টাকা।
গত ১০ সেপ্টেম্বর বিলটি ইস্যু করা হয় এবং পরিশোধের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ সেপ্টেম্বর। বিলটিতে গ্রাহকের শ্রেণি হিসেবে ‘এলটি-এ (আবাসিক)’ উল্লেখ রয়েছে।
অস্বাভাবিক এ বিল প্রসঙ্গে গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুন বলেন, “এটা শুধু ভুতুড়ে বিল নয়, একেবারেই আজগুবি। বিদ্যুৎ বিভাগের এমন ভুলের কারণে একজন সাধারণ গ্রাহককে অযথা দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। দ্রুত এ ধরনের ভুলের প্রতিকার হওয়া প্রয়োজন।”
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে কীভাবে শত শত কোটি টাকার বিল তৈরি হলো—তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে।
এ বিষয়ে জানতে সোমবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে শালিখা উপজেলার চুকিনগরে অবস্থিত মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসে গিয়ে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিমের সঙ্গে কথা বলা হয়।
তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “গ্রাহকের মিটার পরিবর্তন হওয়ার কারণে ভুলবশত মিটারের সিল নম্বরের ডিজিটগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়ে যাওয়ায় এ অস্বাভাবিক বিল তৈরি হয়েছে। বিলটি দ্রুত সংশোধন করে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে এ দায়িত্বহীন ভুলের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলাম বলেন, “টাইপিং মিসটেকের কারণে এমনটি হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যুৎ বিল তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়ায় এ ধরনের অস্বাভাবিক ভুল গ্রাহকের জন্য শুধু আর্থিক আতঙ্কই নয়, ভোগান্তিও তৈরি করে। তাই বিল প্রস্তুত, তথ্য এন্ট্রি ও যাচাইয়ের প্রতিটি ধাপে আরও সতর্কতা ও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।