জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দেড় বছরের শিশুর মাথায় আঘাত!

উবায়দুল্লাহ সাআদ, ফুলপুর (ময়মনসিংহ)

প্রকাশ: ১৩:২৪, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৩:২৫, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দেড় বছরের শিশুর মাথায় আঘাত!

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রূপসী ইউনিয়নের পাতিলগাঁও গ্রামে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মারিয়া আক্তার নামে দেড় বছরের এক শিশুর মাথায় আঘাতের অভিযোগ উঠেছে আসমা খাতুন (৪৫) নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। গত ১২ অক্টোবর ২০২৬ সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১২ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে হুমায়ুন কবিরের বাড়িতে ভাঙচুর চালান হুমায়ুনের চাচা মইন উদ্দিন ও চাচি আসমা খাতুন। এ সময় ঘরের ভেতরে হুমায়ুন কবিরের দেড় বছরের মেয়ে মারিয়া আক্তার বিছানায় শুয়ে ছিল। পরিবারের দাবি, ভাঙচুরের সময় শিশুটি আঘাতপ্রাপ্ত হয়। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ওই সময় আসমা খাতুনের হাতে মোটা লাঠি ছিল।
ঘটনার পর গুরুতর আহত ও অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে প্রথমে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর থেকে শিশুটি অচেতন অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এমআরআই প্রতিবেদনে মাথার পেছনের অংশে রক্তক্ষরণ/রক্ত জমাটের কারণে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে সমস্যা হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। এ কারণে শিশুটির শরীরে খিঁচুনি হচ্ছে এবং বর্তমানে তাকে অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা পরিবারের সদস্যদের শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন।

তবে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মইন উদ্দিন ও তার স্ত্রী আসমা খাতুন। তাদের দাবি, হুমায়ুন কবির নিজেই তার ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেছেন এবং নিজের শিশুকে নিজেই আঘাত করেছেন।

অন্যদিকে, স্থানীয় একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী অভিযোগ করে বলেন, ১২ অক্টোবর সকাল থেকেই হুমায়ুন কবিরের পরিবারের সঙ্গে মইন উদ্দিন ও তার স্ত্রীর কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে আসমা খাতুন লাঠিসোঁটা নিয়ে হুমায়ুন কবিরের বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর চালান। এ বিষয়ে একাধিক ভিডিও ক্লিপ এই প্রতিবেদকের কাছে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বজলু অগ্রযাত্রা প্রতিদিনকে জানান, “আমার প্রতিবেশী  হুমায়ুনের বাচ্চা মারিয়াকে হাসপাতালে আমিই পাঠিয়েছি। খিঁচুনি দেখে প্রথমে মাথায় পানি দিয়ে থামানোর চেষ্টা করেছি। খিঁচুনি না কমায় তাড়াতাড়ি হাসপাতালে পাঠিয়েছি।”
হামলার প্রত্যক্ষদর্শী মাহমুদুল হাসান চুন্নু অগ্রযাত্রা প্রতিদিনকে জানান, হুমায়ুনের ঘরবাড়ি ভাঙচুরের সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তার দাবি, আসমা খাতুন লাঠি হাতে ঘর ভাঙচুর করেছেন।
চুন্নু আরও জানান, ঘটনার সময় হুমায়ুন বাড়িতে ছিলেন না। তিনি বারবার ভাঙচুর থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন বলে দাবি করেন।

গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনেছেন ফুলপুর থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ ইয়াছিন রাছেল ও এসআই শফিক।
ফুলপুর থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ ইয়াছিন রাছেল অগ্রযাত্রা প্রতিদিনকে জানিয়েছেন, তদন্ত করে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

স্থানীয় বিশিষ্ট আলেম মাওলানা ইয়াহইয়া এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমানসহ উপস্থিত ২৫–৩০ জন গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসী অগ্রযাত্রা প্রতিদিনকে জানান, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের সমাধানে এর আগে একাধিকবার দুই পক্ষকে নিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। হুমায়ুন রাজি ছিলেন, কিন্তু মইন উদ্দিন ও তার স্ত্রী স্থানীয়ভাবে মীমাংসায় আগ্রহী না থাকায় সেই উদ্যোগ সফল হয়নি বলে তারা জানান।

হুমায়ুন কবির ফুলপুর উপজেলার পাতিলগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম মৃত সুরজ আলী। তিনি জানান, শিশুর ওপর হামলার ঘটনায় ফুলপুর থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছেন। পুলিশ একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, শিশুটির ওপর হামলার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন