ফেনীতে ওএমএসের চাল-আটা পেতে দীর্ঘ লাইন, খালি হাতে ফিরছেন অনেকে

মোঃ আবুল কালাম, ফেনী

প্রকাশ: ১১:১৮, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

ফেনীতে ওএমএসের চাল-আটা পেতে দীর্ঘ লাইন, খালি হাতে ফিরছেন অনেকে

ফেনীতে খোলাবাজারে পণ্য বিক্রি (ওএমএস) কার্যক্রমে চাল ও আটা কিনতে দীর্ঘ ভোগান্তিতে পড়ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। বরাদ্দ কম থাকায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেককে পণ্য না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিনেও বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা না বাড়ায় বাড়তি জনসংখ্যা ও শ্রমজীবী মানুষের চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে ওএমএসের বিক্রয়কেন্দ্র ও পণ্যের বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সরেজমিনে ফেনী শহরের একাধিক ওএমএস বিক্রয়কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, চাল ও আটা কিনতে ভোর থেকেই নিম্ন আয়ের মানুষের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। জনপ্রতি পাঁচ কেজি চাল ও পাঁচ কেজি আটা কেনার সুযোগ রয়েছে। প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা এবং আটা ২৪ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। তবে বরাদ্দ সীমিত হওয়ায় সবাই পণ্য কিনতে পারছেন না। কোনো সপ্তাহে এক দিন, আবার কোনো সপ্তাহে দুই দিন এসব পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৭ সালে বিশ্বব্যাপী খাদ্যসংকট ও দেশে চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে রাজধানীর পলাশী বাজার এলাকায় ওএমএস কার্যক্রম চালু করে সরকার। দরিদ্র মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বল্পমূল্যে চাল ও আটা বিক্রির এ কর্মসূচি পরে দেশব্যাপী সম্প্রসারণ করা হয়। ২০১০ সালে ফেনী পৌরসভায় এ কার্যক্রম শুরু হয়।
শুরুর দিকে ফেনী পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে ছয়টি বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে ওএমএস কার্যক্রম পরিচালিত হতো। ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়েনি। ফলে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিনের বেশি এ কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
খাদ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পার্শ্ববর্তী কুমিল্লা জেলায় কয়েক দফায় বাড়িয়ে ওএমএস বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা করা হয়েছে ৩২টি। নোয়াখালীতে ১৭টি, চাঁদপুরে ১৫টি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১২টি কেন্দ্র রয়েছে। এসব জেলার তুলনায় ফেনীতে বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা কম হওয়ায় স্থানীয় চাহিদার পুরোটা পূরণ করা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এতে কম দামে চাল ও আটা কেনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ।
ফেনী পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের ওএমএস ডিলার মো. আকবর হোসেন বলেন, কোনো সপ্তাহে দুই দিন, আবার কোনো সপ্তাহে তিন দিন পণ্য বরাদ্দ পান তিনি। প্রতি বরাদ্দে ৭৫০ কেজি চাল ও ৭৫০ কেজি আটা দেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিক্রি শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চলে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ পণ্য সংগ্রহ করেন। কিন্তু কেন্দ্র ও বরাদ্দ কম থাকায় অনেককেই খালি হাতে ফিরে যেতে হয়।
আকবর হোসেন বলেন, সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন এক টন করে চাল ও আটা বরাদ্দ দেওয়া হলে মানুষের চাহিদা কিছুটা পূরণ করা সম্ভব হবে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে ওএমএস কার্যক্রম শুরুর সময় ফেনী পৌরসভার জনসংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯২ হাজার। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৮ হাজারে। সূত্রটির হিসাবে, এ সময়ে পৌরসভার জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪২ শতাংশ। কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়েনি ওএমএস বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা।
এ ছাড়া ফেনীতে স্টার লাইন গ্রুপের ১৭টি শিল্পকারখানা, আবুল খায়ের ম্যাচ ফ্যাক্টরি, কোয়ালিটি জুটমিলসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হাজারো শ্রমিক কাজ করেন। তাঁদের অনেকে স্বল্পমূল্যে খাদ্যপণ্য কিনতে ওএমএস কেন্দ্রগুলোতে আসেন। কিন্তু পর্যাপ্ত বিক্রয়কেন্দ্র ও বরাদ্দ না থাকায় তাঁদের একটি বড় অংশ এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ফেনীর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আলাউদ্দিন ঢালী বলেন, ফেনী পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে ওএমএসের কেন্দ্র রয়েছে মাত্র ছয়টি। এক দিন ১ থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডে কার্যক্রম চালানো হলে পরদিন ৭ থেকে ১২ নম্বর ওয়ার্ডে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এভাবে এক এলাকায় বিক্রি বন্ধ রেখে অন্য এলাকায় কার্যক্রম চালাতে হয়।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় ট্রাকের মাধ্যমে প্রতিদিন তিন টন চাল ও আটা বিক্রির বরাদ্দ থাকলেও ফেনীতে এ ধরনের কোনো বরাদ্দ নেই। ফলে এখানকার ওএমএস কার্যক্রমে চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। বিক্রয়কেন্দ্র ও বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি চালুর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
জেলা ওএমএস কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, ফেনীতে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের সংখ্যা কম নয়। অন্য জেলা থেকেও অনেকে কাজের সন্ধানে এ জেলায় আসেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও ওএমএসের বিক্রয়কেন্দ্র বাড়ানো হয়নি, যা দুঃখজনক।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন