মোঃ দিদারুল ইসলাম, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ২১:১৪, ৫ নভেম্বর ২০২৬
চট্টগ্রাম নগরীতে পাহাড়ধসসহ বহুমাত্রিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম সতর্কবার্তা প্রচার, জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং কমিউনিটি পর্যায়ে প্রস্তুতি জোরদারে প্রশিক্ষিত তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চট্টগ্রামের একটি হোটেলে ‘আগাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় তরুণদের কণ্ঠস্বর ও নেতৃত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা) এ সংলাপের আয়োজন করে।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে আগাম আবহাওয়া বার্তা ও দুর্যোগের পূর্বাভাস সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে যুব স্বেচ্ছাসেবক এবং মেট ক্লাবের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি স্বেচ্ছাসেবকদের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন উল্লেখ করে বলেন, দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এ জন্য তিনি তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের ধন্যবাদ জানান।
তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষিত তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের কার্যক্রম স্থানীয় সরকারের নিয়মিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। এতে দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি গ্রহণ এবং দুর্যোগকালীন ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, নিরাপদ, পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব চট্টগ্রাম গড়ে তোলা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নগরবাসী ও তরুণ সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মীনাক্ষী বর্মন বলেন, দেশে ৬০ থেকে ৭০ হাজার নগর স্বেচ্ছাসেবকের একটি ডেটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। তবে এ ডেটাবেজের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ ও যাচাই করা প্রয়োজন।
সংলাপে জানানো হয়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকা ও বাঁশখালীতে দুর্যোগের আগাম বার্তা পৌঁছে দেওয়া, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশে একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিসের (জিএফএফও) অর্থায়নে এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের সহযোগিতায় ইপসা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এতে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে রাইমস।
প্রকল্পের কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরে সেভ দ্য চিলড্রেনের ম্যানেজার জাভেদ মিয়ানদাদ বলেন, বহুমাত্রিক দুর্যোগ মোকাবিলায় তরুণদের নেতৃত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে যুব স্বেচ্ছাসেবক প্ল্যাটফর্ম গঠন এবং কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরি করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মো. আল আমিন এবং ইপসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ড. মো. আরিফুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন ইপসার পরিচালক (সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট) নাছিম বানু।
স্বেচ্ছাসেবকদের কার্যক্রম ও অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করেন উম্মে হুমাইয়ারা সায়কা আবসার। মেট ক্লাবের কার্যক্রম তুলে ধরেন অনিকেত, মুনতাহিনা জয়া ও আফরা ইমরোজ। রিসার্চ ফেলোশিপের গবেষণালব্ধ ফলাফল ও সুপারিশ উপস্থাপন করেন ইপসার মনিটরিং অফিসার এস এম শাহরিয়ার আলম।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম ও বাঁশখালী উপজেলার ১০৪ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণ স্বেচ্ছাসেবকের মধ্যে সনদ ও পরিচয়পত্র বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইপসার প্রকল্প কর্মকর্তা মুহাম্মদ আতাউল হাকিম। এতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, স্কুলশিক্ষার্থী, গবেষক, গবেষণা ফেলো, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।