জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্তর্নিহিত শক্তিই ৭ নভেম্বরের চেতনা : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩:৩৬, ৬ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২৩:৩৮, ৬ নভেম্বর ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্তর্নিহিত শক্তিই ৭ নভেম্বরের চেতনা : রিজভী

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্তর্নিহিত শক্তিই ছিল ৭ নভেম্বরের চেতনা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাড. রুহুল কবির রিজভী। মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে এ মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বাণী পাঠানো হয়।

বাণীতে রুহুল কবির রিজভী বলেন, জাতীয় জীবনের এক ঐতিহাসিক অবস্মরণীয় দিন ৭ নভেম্বর। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সৈনিক-জনতা রাজপথে নেমে এসেছিল স্বাধীনতা রক্ষা ও হারানো গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের দৃঢ় অঙ্গীকার বুকে নিয়ে। ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক বিপ্লব অত্যন্ত তাৎপর্যমণ্ডিত।

স্বাধীনোত্তর তৎকালীন ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী নিজ স্বার্থে জাতীয় স্বাধীনতাকে হুমকির মুখোমুখি করে আধিপত্যের থাবায় দেশকে ঠেলে দেয়। মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে কেড়ে নিয়ে একদলীয় ব্যবস্থা গঠন করে দুঃশাসন চালু করা হয়। তারা দেশের সকল বিরোধী রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে একটি মাত্র রাজনৈতিক দল বাকশাল গঠন করে। ভিন্নমতাবলম্বী সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করা হয়।
দেশে নেমে আসে নিদারুন অশান্তি আর নৈরাজ্য। 

তিনি বলেন, মাতৃভূমির এই চরম সংকটকালে ‘৭৫ এর ৩ নভেম্বর চক্রান্তকারীরা মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে ক্যান্টনমেন্টে বন্দী করে। এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বর স্বজাতির স্বাধীনতা রক্ষায় অকুতোভয় দেশপ্রেমিক সৈনিক এবং জনতার ঢলে রাজপথে এক অনন্য সংহতির স্ফুরণ ঘটে এবং জিয়াউর রহমান মুক্ত হন। এই পটপরিবর্তনে রাষ্ট্রপতি জিয়ার নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী সত্তা লাভ করে। গণতন্ত্র অর্গলমুক্ত হয় এবং জনগণ নাগরিক স্বাধীনতা ফিরে পায়।

এই দিন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথ চলা শুরু হয়। মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে আসে। দেশে শুরু হয় উৎপাদন ও সমৃদ্ধির প্রবাহ। স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থনীতির ভিত রচিত হয়। দেশ স্বনির্ভর হয়ে উঠে। বিদেশি শক্তির এদেশীয় অনুচররা উদ্দেশ্য সাধনের পথে কাঁটা মনে করে ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াকে হত্যা করে। জিয়া শাহাদাত বরণ করলেও তার আদর্শে বলীয়ান মানুষ দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় এখনও দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।

তিনি আরো বলেন, বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকার নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে চিরতরে উচ্ছেদ করতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে নির্দয়ভাবে ব্যবহার করে। গুম, খুন আর ক্রসফায়ারের সংস্কৃতি হয় রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য। তাদের নিষ্ঠুর নির্যাতনে অব্যাহত ধারায় লক্ষ-লক্ষ নেতাকর্মীসহ ‘গণতন্ত্রের প্রতীক’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে বন্দী করে রাখে। ছাত্র-জনতার সাহসী প্রতিরোধের মুখে ২০২৪-এর জুলাই এক ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান সৃষ্টি হয়, ৫ আগস্ট পতন হয় শেখ হাসিনার। জুলাই বিপ্লবের অন্তর্নিহিত শক্তিই ছিল ৭ নভেম্বরের চেতনা। তাই আজও ৭ নভেম্বরের সিপাহি জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের গুরুত্ব অপরিসীম।

আমি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে দেশবাসীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

আল্লাহ হাফেজ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।

আরও পড়ুন