নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩:৪৬, ৬ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২৩:৪৯, ৬ নভেম্বর ২০২৬
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত ‘ঢাকা ওয়ানগালা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কায়সার কামাল বলেন, প্রতিটি ধর্মের মূল শিক্ষা সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জন। প্রত্যেক মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন যথাযথভাবে মেনে চললে দেশের সামগ্রিক সমাজব্যবস্থা আরও সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ হয়ে উঠবে।
দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে ডেপুটি স্পিকার বলেন, সাম্প্রতিক দুর্গাপূজা সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে। বাংলাদেশে আগে এমন পরিবেশ খুব একটা দেখা যায়নি। আইনের শাসন ফিরিয়ে আনা এবং নতুন গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার ফলে মানুষ এখন নিজ নিজ ধর্ম পালনের পাশাপাশি স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে। নাগরিকদের সাংবিধানিক ও আইনি অধিকার সুসংহত হওয়ায় এ পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা স্মরণ করে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ধারাকে একসূত্রে বাঁধতে জিয়াউর রহমান নেত্রকোনার দুর্গাপুরসহ মোট ১০টি কালচারাল একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই ঐতিহ্য ধরে রেখে সাংস্কৃতিক একাডেমিগুলোর কার্যক্রম নতুনভাবে সাজানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় বনানী ওয়ানগালার আয়োজকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় পর্যায়ে একটি নতুন কালচারাল একাডেমি ও গির্জা প্রতিষ্ঠার আশ্বাস দেন ডেপুটি স্পিকার।
খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতি সরকারের সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে কায়সার কামাল বলেন, আসন্ন বড়দিন উদযাপনের জন্য খ্রিষ্টান সম্প্রদায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ২ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আবেদনের চেয়ে ১ কোটি টাকা বেশি দিয়ে মোট ৩ কোটি টাকা অনুদানের নির্দেশ দিয়েছেন।
এ জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এমন একজন রাষ্ট্রপ্রধান চায়, যিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন এবং মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন।
দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে দেশ নতুন গণতান্ত্রিক পথে যাত্রা শুরু করেছে বলেও মন্তব্য করেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, অতীত পেছনে ফেলে বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সবার সমান অধিকার ও নাগরিক মর্যাদা নিশ্চিত হবে।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো টেকসই করতে সমাজের সব শ্রেণি ও ধর্মের মানুষের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ডেপুটি স্পিকার উৎসবের বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। আলোচনা শেষে তিনি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন। গারো সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট নেতা ও বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।