নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২:১০, ৬ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২২:২০, ৬ নভেম্বর ২০২৬
দেশে স্বাধীন, শক্তিশালী ও দুর্নীতিমুক্ত বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ঢাকা আইনজীবী সমিতির নবীন সদস্যদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, একজন আইনজীবীর পেশাগত জীবনে সফলতার কোনো সংক্ষিপ্ত পথ নেই। মেধা, প্রজ্ঞা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। নবীন আইনজীবীদের সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বিচারাঙ্গনের মর্যাদা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মক্কেলের আস্থা ও বিশ্বাসের যথাযথ মূল্যায়ন করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিপদে পড়া মানুষ ন্যায়বিচারের আশায় আইনজীবীদের কাছে আসেন। তাই তাদের বিশ্বাস রক্ষা করা আইনজীবীদের নৈতিক দায়িত্ব। আদালতে মামলা পরিচালনার আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি এবং আইনের বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
বিচারকদের জবাবদিহির বিষয়েও বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিচারকরাও আইনের ঊর্ধ্বে নন। কোনো বিচারকের কর্মকাণ্ডের কারণে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
আদালত অঙ্গনে দলীয় প্রভাব ও ক্ষমতার দাপটের পরিবর্তে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আইনজীবীদের প্রধান দায়িত্ব হলো আদালতে আইনি যুক্তি তুলে ধরা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা।
নবীন আইনজীবীদের পেশাগত প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সংকট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সনদ পাওয়ার পর অনেকেই আইন পেশায় যুক্ত হলেও পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ পান না। আবার জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রেও অনেক সময় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও ন্যায্য পারিশ্রমিকের অভাব থাকে। এ সমস্যা সমাধানে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি জানান, আইনজীবীদের দক্ষতা উন্নয়নে চলতি বছর আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আইনজীবীদের কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রতিটি কোম্পানিতে একজন করে আইনজীবী নিয়োগের বিধান চালুর লক্ষ্যে কোম্পানি আইন সংশোধনের বিষয়টি বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।
আইন পেশায় সততা, স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, একজন আইনজীবী তার পরিচালিত ১০টি মামলার মধ্যে অন্তত দুটি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য বিনা পারিশ্রমিকে পরিচালনা করতে পারেন।
বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সব ধরনের হত্যা, অন্যায় ও অবিচারের বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিগত ১৬ বছরের বেশি সময়ের রাজনৈতিক আন্দোলনে সাড়ে চার হাজারের বেশি সহযোদ্ধা নিহত, সাত শতাধিক মানুষ গুম এবং ৬০ লাখের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দায়েরের অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
নবীন আইনজীবীদের আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার ও জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী। একই সঙ্গে বিচার বিভাগকে স্বাধীন, শক্তিশালী ও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের পরামর্শ দেন তিনি।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ ভূইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, সমিতির সাবেক ও বর্তমান নেতারা, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং নবীন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।