৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০:৫০, ৬ নভেম্বর ২০২৬

৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দুর্নীতি, বৈষম্য ও সব ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

আগামীকাল ৭ নভেম্বর ‘মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

বাণীতে তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণ ও দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা ও গণতান্ত্রিক চর্চাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব নাগরিককে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবে অংশ নেওয়া বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিক মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে ৭ নভেম্বরকে বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তৎকালীন রাজনৈতিক সংকট, দুর্নীতি, নৈরাজ্য ও আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্রের প্রেক্ষাপটে সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ অভ্যুত্থান দেশের ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হয়ে রয়েছে। ওই সময় বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম।

সিপাহি ও জনতার ঐক্যকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ এক বিশেষ জাগরণ হিসেবে বর্ণনা করেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর মতে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও একই ধরনের জাতীয় ঐক্যের প্রতিফলন দেখা গেছে। ছাত্র-জনতা, নারী-পুরুষ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে।

বাণীতে তিনি আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনার ধারাবাহিকতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং বাক্‌ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তি, সামাজিক শান্তি এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্র ও দুঃশাসনের মুখে পড়েছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ আবারও গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। এই অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন