নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১:৫৭, ৫ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২২:২২, ৫ নভেম্বর ২০২৬
ফেসবুক পোস্টে সামান্তা জানান, কিছুক্ষণ আগেই তিনি এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। প্রায় এক বছর আগে দলটির জোট গঠনের প্রশ্নে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি। সে সময় তার বক্তব্য ছিল, জামায়াতে ইসলামী নীতিগত কিংবা কৌশলগত কোনো দিক থেকেই এনসিপির মিত্র হওয়ার উপযুক্ত নয়। দলটি জামায়াতের সঙ্গে জোট করলে এর জন্য বড় রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেছিলেন তিনি।
গত ২৩ অক্টোবর এনসিপির ঘোষিত নতুন কমিটিতে সামান্তাকে শুধু যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রাখা হয়। এতে তার পদাবনতি হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে এর আগে দীর্ঘ একটি পোস্টও দিয়েছিলেন তিনি।
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে সামান্তা জানান, গত ১১ মাস ধরে দলের অতীত কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে দলের একাধিক পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ ও প্রস্তাব দিয়েছেন। পাশাপাশি আলোচনা, বিতর্ক ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে দলের সিদ্ধান্ত ও নীতির সঙ্গে নিজের মতপার্থক্য তুলে ধরেছেন।
তার ভাষ্য, দল কোনো ভুল পথে এগোলে তা থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা রাজনৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করেছেন তিনি। এ কারণে এনসিপির ভেতরে থেকেই মতাদর্শিক লড়াই চালিয়ে গেছেন। তবে প্রায় এক বছরের সেই প্রচেষ্টার সমাপ্তি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সামান্তার মতে, দলটি প্রতিষ্ঠাকালীন মূল্যবোধের প্রতি আর আন্তরিক থাকতে পারবে না।
সামান্তা আরও বলেন, দলের কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ হিসেবে পদত্যাগ করলে বিষয়টি মূল্যায়ন করা সহজ হতো। তবে উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষা করাকে তিনি অর্থহীন মনে করেছেন। তার মতে, এনসিপি ভবিষ্যতে জামায়াতের সঙ্গে জোট থেকে সরে আসার মতো সিদ্ধান্ত নিলেও পুরোনো রাজনৈতিক ধারার বাইরে নিজস্ব পরিচয়, চিন্তা ও কর্মসূচি গড়ে তুলতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার ধারায় গড়ে ওঠা দলগুলো রাষ্ট্রে নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সহায়ক না হয়ে বরং বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এনসিপির সঙ্গে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য ও অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয়গুলো এখন দলের সদস্য এবং দলীয় কাঠামোর বাইরের শুভানুধ্যায়ীদের সামনে তুলে ধরার সময় এসেছে বলেও মনে করেন তিনি।