নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯:৩৭, ৬ নভেম্বর ২০২৬
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় সফরকালে উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন মন্ত্রী। নামাজ শেষে মুসল্লিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, দায়িত্ব গ্রহণের সময় প্রতি ইউনিট গ্যাস আমদানিতে ব্যয় ছিল ১২ ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে ৩২ ডলারে পৌঁছেছে। গত কয়েক মাসে জ্বালানি খাতে সরকারকে ৪৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে হামলার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
টুকু বলেন, জ্বালানি খাতে এভাবে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হলে সড়ক নির্মাণ, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নসহ সরকারের অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ সময় রাজনৈতিক প্রসঙ্গেও কথা বলেন মন্ত্রী। আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, দলটি এখন রাজনৈতিকভাবে মাটির নিচে চলে গেছে। বিগত সরকারের সময়ে বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে কামারখন্দের স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, কড্ডা থেকে জামতৈল পর্যন্ত সড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিকল্প উৎস ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বাড়িতে বাড়িতে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপনের আহ্বান জানান। এতে জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমার পাশাপাশি গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিলও সাশ্রয় হবে বলে মনে করেন তিনি। এ উদ্যোগে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন মন্ত্রী।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।