নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১:১৫, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১১:১৭, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঘটনাটি উত্তরবঙ্গের তিস্তা নদীর গজলডোবা সংলগ্ন এলাকায়, ১২ নম্বর স্পারের কাছাকাছি।
প্রবল স্রোতের মধ্যে প্রায় ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার নদীপথ অনুসরণ করার পর মৎস্যজীবীরা হাতিশাবকটির কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হন। ঝুঁকি নিয়ে নদী থেকে শাবকটিকে উদ্ধার করে নৌকায় তোলা হয়। পরে বন দফতরকে খবর দেওয়া হলে বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে শাবকটির দায়িত্ব নেন।
তবে শাবকটি উদ্ধারের পরও শেষ হয়নি অভিযান। মাত্র দুই সপ্তাহ বয়সী হওয়ায় দীর্ঘ সময় মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকলে তার বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তাই বনকর্মীরা নদী ও আশপাশের জঙ্গল এলাকায় মা হাতিটির খোঁজ শুরু করেন।
একপর্যায়ে নজরদারি চালিয়ে মা হাতিটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর নিরাপদে শাবকটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অবশেষে সফল হয় সেই উদ্যোগ। মা হাতির সঙ্গে শাবকটির পুনর্মিলন ঘটে। মা হাতিও নিজের সন্তানকে গ্রহণ করে নেয়। শাবকটিকে সঙ্গে নিয়ে জলের মধ্যে চলে যায় মা হাতিটি। পরে শাবকটিকে মায়ের দুধ পান করতেও দেখা যায়।
তিস্তার প্রবল স্রোতে একা ভেসে চলা ছোট্ট হাতিশাবকটি শেষ পর্যন্ত ফিরে পায় তার সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়—মায়ের কাছে।
এই উদ্ধার অভিযানে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। নদীর প্রবল স্রোতের মধ্যে বিপদে পড়া শাবকটিকে দেখতে পেয়ে তাঁরা দ্রুত এগিয়ে যান এবং কয়েক কিলোমিটার নৌপথ অনুসরণ করে তাকে উদ্ধার করেন। পরে বন দফতরের হাতে তুলে দেওয়ার পর বনকর্মীদের উদ্যোগে শাবকটির সঙ্গে মায়ের পুনর্মিলন ঘটে।
তিস্তার স্রোত থেকে শুরু হওয়া এই ঘটনার শেষটা তাই স্বস্তির—মা ফিরে পেল তার সন্তান, আর ছোট্ট হাতিশাবক ফিরে পেল তার আপন ঠিকানা।
শীর্ষ সংবাদ: