বিএমইউর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম এ হাদীর স্মরণসভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯:৫২, ২ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২০:১২, ২ নভেম্বর ২০২৬

বিএমইউর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম এ হাদীর স্মরণসভা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিএমইউর সাবেক উপাচার্য প্রয়াত অধ্যাপক ডা. এম এ হাদী স্যারের বর্ণাঢ্য জীবন শীর্ষক স্মরণ সভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, অধ্যাপক ডা. এম এ হাদী  বাংলাদেশে পোস্ট গ্রাজুয়েট মেডিক্যাল শিক্ষার প্রসারে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তিনি ছিলেন গুণী শিক্ষক, স্বনামধন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও দক্ষ প্রশাসক। এর সাথে সাথে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী চেতনাকে ধারণ ও ছড়িয়ে দিতেও তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন।

আজ সোমবার ২ নভেম্বর ২০২৬ইং তারিখে শহীদ ডা. মিলন হলে অধ্যাপক ডা. এম এ হাদী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বিএমইউর সাবেক উপাচার্য প্রয়াত অধ্যাপক ডা. এম এ হাদী এর বর্ণাঢ্য জীবন শীর্ষক স্মরণ সভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ডা. এম এ হাদী স্যারের বর্ণাঢ্য জীবন নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয় ও সব শেষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি বলেন, অধ্যাপক ডা. এম এ হাদী স্যার ছিলেন সময়ের প্রতি অত্যন্ত সচেতন। তিনি ভোর পাঁচটায় প্রাইভেট হাসপাতালে রোগীদের অপারেশন করতেন। সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে অফিসে চলে আসতেন। তিনি ছিলেন দূরদর্শী ও চিন্তাশীল মানুষ। বাংলাদেশে পোস্ট গ্রাজুয়েট ও আন্ডার গ্রাজুয়েট মেডিক্যাল শিক্ষাসহ স্বাস্থ্যসেবাখাতের উন্নয়ন ও বিকাশে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি বাংলাদেশের নার্সিং সেবাখাত ও মেডিক্যাল টেকনোলজির উন্নয়ন ও বিকাশেও বিরাট অবদান রেখেছেন। তবে এসব সম্ভব হয়েছে সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ঐকান্তিক সহযোগিতার ফলে।

বিএমইউ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিএমইউতে দেশের রোগীরা, মানুষ অনেক আশা নিয়ে আসেন। বিএমইউকে সেন্টার অফ এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এমন একটা ব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত যাতে সকল রেফার্ড রোগী ৩৬৫ দিনের ২৪ ঘন্টাই চিকিৎসাসেবা পায় এবং একজন রেফার্ড রোগীকেও যাতে বিএমইউ থেকে ফেরত যেতে না হয়। এখানে যারা শিক্ষক রয়েছেন তাদেরকে আন্তর্জাতিকমানের গবেষণায় উৎসাহিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা দিতে হবে। বিএমইউতে কর্মরত যারা এখানে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৮ ঘন্টা কাজ করতে ইচ্ছুক তাদেরকে প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা দিয়ে কাজে লাগাতে হবে, যাতে বিএমইউকে সত্যিই সেন্টার অফ এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে তোলা যায়। 

অধ্যাপক ডা. এম এ হাদী ফাউন্ডেশনের আহ্বয়াক ডা. মোফাখখারুল ইসলাম রানা এর সভাপতিত্বে  অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির মাননীয় সভাপতি অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, এমপি, বলেন, অধ্যাপক ডা. এম এ হাদী স্যার মেধা ও গুণকে সর্বোচ্চ প্রধান্য দিতেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার বা স্পেশালিটির বিকাশে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি আরো বলেন, বিএমইউতে বিগত ১৭ বছরে যে অনিয়ম, দুর্নীতি হয়েছে সেগুলোর তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, এমপি বলেন, দেশের চিকিৎসাসেবাখাতসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্যখাত বিষয়ে অধ্যাপক ডা. এম এ হাদী স্যারের ছিল অগাধ জ্ঞান এবং এ বিষয়ে তাঁর ছিল সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও কার্যকরী উদ্যোগ।

বিএমইউ’র সম্মানিত উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, অধ্যাপক ডা. এম এ হাদী স্যার ছিলেন একজন শিক্ষাগুরু। তিনি ছিলেন একজন স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত একজন একাডেমিশিয়ান। তিনি গুণী শিক্ষক, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দক্ষ প্রশাসক হিসেবে যে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন তাতে তিনি মানুষের অন্তরে একটি স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন।

অধ্যাপক ডা. এম এ হাদী ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. এস এম ইউনুস আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, বিএমএ ও ড্যাবের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. একেএম আজিজুল হক, বিএনপির পরিবার কল্যাণ বিষয় কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল কবির লাবু, বিএমইউ’র উপ-উপাচার্য ও বিএনপির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম, বিএমইউ’র রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ মোস্তফা কামাল, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু, চীফ এস্টেট অফিসার ডা. মোঃ এহতেশামুল হক তুহিন, ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ সাইফুল ইসলাম সেলিম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। 

অনুষ্ঠানে বিএমইউর উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার, ডেন্টাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ, ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন, ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুস সালাম, ডা. মোহাম্মদ জাফর ইকবাল, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ডা. সাইফ উদ্দিন নিসার আহমেদ, ওরাল এ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেশিয়াল সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোঃ সাইফুল আজম রঞ্জু,  পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) খন্দকার শফিকুল হাসান রতন প্রমুখসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পর্যায়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স, টেকনোলজিস্ট, কর্মচারীবৃন্দ, ড্যাবের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, দেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন