তীব্র গরমে লোডশেডিংয়ে নাকাল শিবচরবাসী

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬:১৭, ৩ আগস্ট ২০২৬

তীব্র গরমে লোডশেডিংয়ে নাকাল শিবচরবাসী

তীব্র গরমে যখন জনজীবন হাঁসফাঁস করছে, তখন ঘন ঘন লোডশেডিং মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে অর্ধেকেরও কম সরবরাহ পাওয়ায় জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গ্রাম থেকে পৌর এলাকা—সবখানেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে লেখাপড়া, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসাসেবা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌর এলাকায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরপর নিয়মিত লোডশেডিং হলেও গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। কোথাও তিন থেকে চার ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ মিলছে, আবার কোথাও টানা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

শিবচর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার গ্রাহকের বিপরীতে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩৫ মেগাওয়াট। বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৫ থেকে ১৬ মেগাওয়াট। এ কারণে এলাকাভিত্তিক সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

পৌর এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। নিয়মিত বিল দিলেও প্রয়োজনের সময় বিদ্যুৎ পাই না। দিনে-রাতে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনই কঠিন হয়ে পড়েছে।”

লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যানচালকেরা। স্থানীয় ভ্যানচালক রফিক বলেন, “রাতে ঠিকমতো ব্যাটারি চার্জ দিতে পারি না। তাই সকালে বের হলেও দুপুরের আগেই বাড়ি ফিরতে হয়। আগে ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা আয় হতো, এখন ৩০০ টাকাও হয় না। সংসার চালানো খুব কষ্ট হয়ে গেছে।”

শিক্ষার্থীরাও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষার্থী তায়েবা ইসলাম ও মুনিরা আক্তার বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের মধ্যে পড়াশোনা করা যাচ্ছে না, রাতে ঠিকমতো ঘুমও হচ্ছে না। এতে পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে এবং ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।”

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, লোডশেডিংয়ের কারণে শিশু, বয়স্ক ও অন্যান্য রোগীরা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি রোগী খবির মিয়া বলেন, “হাসপাতালে সুস্থ হতে এসেছি, কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে আরও কষ্ট হচ্ছে। সারাক্ষণ ঘেমে থাকি, ঘুমাতে পারি না। এতে রোগ আরও বেড়ে যাচ্ছে।”

এ বিষয়ে মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার সুশান্ত রায় বলেন, “জেলায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ৮৪ মেগাওয়াট। তবে বর্তমানে চাহিদার মাত্র ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে গড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেল ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।”

আরও পড়ুন