মো. মিজানুর রহমান সাগর, বাগেরহাট
প্রকাশ: ২০:০৩, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
স্মার্টফোন, ইউটিউব আর ফেসবুকের যুগেও পুরোনো রেডিওই তাঁর নিত্যসঙ্গী। গলায় ঝোলানো ছোট্ট রেডিওতে কখনো খবর, কখনো গান, কখনো নাটক শোনেন। রেডিও ছাড়া যেন এক মুহূর্তও চলে না তাঁর। বাগেরহাটের ৫৮ বছর বয়সী বিপ্লব দাশের কাছে রেডিও শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, ভালোবাসারও অংশ। এই ভালোবাসা ধরে রাখতে রেডিওর ব্যাটারি কিনতেই তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা।
বিপ্লব দাশের বাবা চুনিলাল দাশ। তাঁর বাড়ি বাগেরহাট সদর উপজেলার খাদ্দার এলাকায়। বাগেরহাট স্বাধীনতা উদ্যানের পাশে রেড ক্রিসেন্ট ভবনের নিচে তাঁর ছোট্ট একটি চায়ের দোকান রয়েছে। গত ১৫ বছর ধরে সেখানে চা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। তবে দোকানের পরিচয়ের বাইরেও স্থানীয়দের কাছে তাঁর আরেকটি পরিচয়—তিনি রেডিওপ্রেমী মানুষ।
দোকানে গেলেই দেখা যায়, বুকের কাছে ঝুলছে ছোট্ট কালো রঙের রেডিও। ক্রেতারা চা পান করতে করতে সেই রেডিওতে খবর, গান ও নাটক শোনেন। দোকানের আড্ডায় রেডিওর শব্দ যেন আলাদা আবহ তৈরি করে।
বিপ্লব দাশ হাসতে হাসতে বলেন, “রেডিও আমার নেশা, রেডিও আমার ভালোবাসা। রেডিও ছাড়া আমি এক মিনিটও থাকতে পারি না। ঘুম থেকে উঠে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত রেডিও আমার সঙ্গী।”
রেডিও চালানোর এই নেশা ধরে রাখতে কম খরচ হয়নি তাঁর। বিপ্লব দাশের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ টাকার ব্যাটারি কিনেছেন শুধু রেডিও চালানোর জন্য। যখন চারপাশের মানুষ স্মার্টফোনে ব্যস্ত, তখনো তিনি ব্যাটারি বদলে রেডিওর চ্যানেল ঘুরিয়ে পছন্দের অনুষ্ঠান শোনেন।
তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই রেডিওর প্রতি তাঁর আলাদা টান। একসময় গ্রামে বিদ্যুৎ না থাকায় রেডিও ছিল খবর ও বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তি বদলেছে, এসেছে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট; কিন্তু রেডিওর প্রতি তাঁর ভালোবাসা বদলায়নি। নতুন প্রজন্মের কাছেও তিনি রেডিওর গল্প বলেন এবং এটি শোনার আগ্রহ তৈরি করার চেষ্টা করেন।
স্থানীয়দের কাছে স্বাধীনতা উদ্যানের পাশে বিপ্লব দাশের চায়ের দোকান আর গলায় ঝোলানো রেডিও এখন পরিচিত দৃশ্য। ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারের মধ্যেও তাঁর এই অভ্যাস পুরোনো দিনের রেডিও সংস্কৃতিকে মনে করিয়ে দেয়।
প্রযুক্তির পরিবর্তনের মধ্যেও রেডিওর প্রতি ভালোবাসা ধরে রেখেছেন বিপ্লব দাশ। তাঁর কাছে রেডিও কেবল একটি যন্ত্র নয়, দীর্ঘদিনের অভ্যাস ও স্মৃতির সঙ্গী।