নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০:৪৫, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল মজিদ মুন্সী এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম মোমিন জানান, মামলায় মোট ৬৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। রায়ে কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও কনস্টেবল হারুন অর রশীদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বরখাস্ত হওয়া এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই হাসান উদ্দিন এবং সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমানকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নিয়ে রায়হান আহমদকে নির্যাতন করা হয়। পরদিন ১১ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে রায়হানের শরীরে ৯৩টি আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হাত ও পায়ের আঙুলের নখ উপড়ে ফেলার বিষয়টিও মামলার পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
ঘটনার পর রায়হানের স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় মামলা করেন। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে। ২০২১ সালের ৫ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমান শুরু থেকেই পলাতক বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। প্রধান আসামি আকবর হোসেন ভূঞাও জামিনে মুক্তির পর আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য আসামিদের অবস্থান ও সাজা কার্যকরের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
রায় ঘোষণার দিন কড়া নিরাপত্তার মধ্যে কারাগারে থাকা আসামি এএসআই আশেক এলাহীকে আদালতে হাজির করা হয়।
রায়হানের মা সালমা বেগম রায়ে প্রাথমিক সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও আসামিদের পলাতক থাকার বিষয়ে ক্ষোভ জানান। তাঁর ভাষ্য, রায় ঘোষণা হলেও আসামিরা গ্রেপ্তার না হলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়ার অনুভূতি আসবে না। দীর্ঘ অপেক্ষা ও কষ্টের কথা উল্লেখ করে তিনি পলাতক আসামিদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।
রায়হান হত্যা মামলাটি পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। আদালতের রায়ের পর এখন সাজা কার্যকর এবং পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।