নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯:৪৯, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
এক সাংবাদিকের প্রশ্নে একেএম এনায়েতুল করিম বলেন, ‘আত্মহত্যার তো প্রশ্নই আসে না, সে অত্যন্ত প্লেজেন্ট পার্সোনালিটির একজন মানুষ। আর একজন কমিশনড অফিসার তো অনেক কষ্ট করে তাকে এটা অর্জন করতে হয়। সে বিভিন্ন কোর্স করে তারপরে...এরকম একজন অফিসার…এরকম কোনো ব্যাপার ছিল না। তার মৃত্যুর ঘটনা আত্মহত্যা (সুইসাইড) নয়। তাকে হত্যার পর নদীতে ফেলে দিয়েছে বলে আমি সাসপেক্ট করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার তদন্ত করলে এর সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের বের করতে পারবে। কোন চক্র এটা করেছে।’
এনায়েতুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনার আগের দিন তাহসিফ তার মায়ের সঙ্গে ছিল। শপিং করেছে, হ্যাপি মুডে ছিল। ওর দ্বীপ নামের একটা বন্ধু এসেছিল। মাকে বলেছিল নিচ থেকে কথা বলে আসছি। এরপরে আর ফেরে নাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফ তার মাকে ভয়েস মেসেজ দিয়েছিল, আমি আসতেছি। এরপর আর আসেনি। দ্বীপের কাছে তাহসিফের ব্যাপারে জানতে চাইলে সে বলে, আমি জানি না। তবে দ্বীপ বলেছিল, ঘটনার আগের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত তাহসিফ আমাদের বাসার কম্পাউন্ডে ছিল।’
এর আগে, গতকাল বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদ থেকে তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তাহসিফ সৌরির মরদেহ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের মর্গে রাখা হয়।
প্রাথমিক সুরতহাল শেষে পুলিশ জানিয়েছে, বাহ্যিকভাবে তাহসিফ সাউরির গায়ে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি, কেবল উদ্ধারকালে নাক দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে।
আজ বিকাল ৪টার দিকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর তাহসিফের লাশ তার বাসার নিচে নেওয়া হয়। এ সময় স্বজনদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
স্থানীয় মসজিদে জানাজা শেষে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাকে দাফনের কথা রয়েছে।
গুঞ্জন রয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের মুহূর্তের যে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল, সেটি তাহসিফ সাউরিই ধারণ করেছিলেন। তবে দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার পক্ষ থেকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।