নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১:০৩, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
এসআরবি-১ সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে এসআরবি-১-এর সিপিসি-২-এর একটি দল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা পশ্চিম থানাধীন যমযম টাওয়ার-সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর দুই নারী ভিকটিম মেমাচি মারমা (১৫) ও মাংশানু মগনিকে (১৮) উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া দুই নারীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় করা একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে পরবর্তী অভিযান পরিচালনা করা হয়। ২৬ অক্টোবর রাত ৮টা থেকে ২৭ অক্টোবর রাত ১টা পর্যন্ত রাজধানীর ভাটারা থানাধীন ২৯৪১ নম্বর বাসা, রোড নম্বর ৫৬, ব্লক-এল-এর সপ্তম তলায় (লিফটের ছয় নম্বর) অভিযান চালানো হয়। এ সময় আরও ১০ নারীকে উদ্ধার করে এসআরবি-১।
উদ্ধার হওয়া অন্য ১০ নারী হলেন রেখা চাকমা (২৮), ক্যানচি চাকমা (২২), বিরুপতি চাকমা (২৮), পূণ্যরেখা চাকমা (২৮), চাইছাইও মার্মা (২২), কৃষ্টিনা রোয়ালময় বৈল্টুং (১৯), পুষ্পিতা চাকমা (২১), পিংকি চাকমা (১৫), ববিতা চাকমা (২৭) ও আদর্শী চাকমা (২১)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ভিকটিমরা জানান, তাঁদের চীনে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে উচ্চ বেতনে চাকরি ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। পরে কোনো বৈধ ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র ও পাসপোর্ট ছাড়াই অসৎ উদ্দেশ্যে বিদেশে পাচারের জন্য তাঁদের একটি বাসায় জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়। এ সময় তাঁদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় এবং বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়ানোর প্রলোভন দেখানো হয় বলে জানা গেছে।
এসআরবি-১ জানায়, উদ্ধার হওয়া ১২ নারীকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে তাঁদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভিকটিমদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মানব পাচার প্রতিরোধ এবং ভুক্তভোগীদের উদ্ধারে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে এসআরবি-১।