ময়মনসিংহে এসআরবির পৃথক অভিযানে তিন আসামি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭:১৪, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

ময়মনসিংহে এসআরবির পৃথক অভিযানে তিন আসামি গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহে পৃথক অভিযান চালিয়ে মানবপাচার, অপহরণ ও হত্যা মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) ১৪ নম্বর ব্যাটালিয়নের সিপিএসসি। এ সময় অপহরণ মামলার এক ভুক্তভোগী কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) এসআরবি-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ২৫ ও ২৬ অক্টোবর ঢাকা ও নেত্রকোনার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মানবপাচার মামলার আসামি খলিল বেপারী (৩৮), অপহরণ মামলার প্রধান আসামি মো. রাব্বি (২০) এবং হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত সন্দেহভাজন আসামি মো. আলম মিয়া (৩৭)।

এসআরবি সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকালে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে নিজের বাসায় নিয়ে যান খলিল বেপারী। পরদিন পার্লারে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তাঁকে ময়মনসিংহের একটি পতিতালয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলাটি দায়েরের পর থেকে খলিল আত্মগোপনে ছিলেন।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৫ অক্টোবর দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে এসআরবি-৪, সিপিসি-২, নবীনগর, ঢাকার সহায়তায় ঢাকার সাভার থানার হেমায়েতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অপহরণের শিকার কিশোরী উদ্ধার

অন্যদিকে, ময়মনসিংহের ফুলপুরে এক কিশোরীকে অপহরণের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি মো. রাব্বিকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরী স্কুলে যাওয়া-আসার পথে রাব্বি তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন।

গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভুক্তভোগীর বাড়ির কাছের একটি সড়ক থেকে সহযোগীদের সহায়তায় তাঁকে জোরপূর্বক একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা ফুলপুর থানায় মামলা করেন।

মামলার পর থেকে আসামিরা আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামি ও ভুক্তভোগীর অবস্থান শনাক্ত করে গত ২৫ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাভার থানার ব্যাংক কলোনি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এসআরবি-৪, সিপিসি-২, নবীনগর, ঢাকার সহায়তায় পরিচালিত ওই অভিযানে রাব্বিকে গ্রেপ্তার এবং অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।

হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি গ্রেপ্তার

এদিকে, ময়মনসিংহের তারাকান্দায় রফিকুল ইসলাম (৪৫) হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত সন্দেহভাজন আসামি মো. আলম মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন রফিকুল ইসলাম। পরে তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে ১ সেপ্টেম্বর রাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে তারাকান্দা থানার ভালকী নয়াপাড়া এলাকায় নুরুল মিয়ার পুকুরপাড় থেকে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. রাকিব মিয়া বাদী হয়ে তারাকান্দা থানায় হত্যা মামলা করেন। ঘটনার পর থেকে এসআরবি-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ ছায়াতদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ অক্টোবর বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে এসআরবি-১, সিপিএসসি, পোড়াবাড়ী, গাজীপুরের সহায়তায় নেত্রকোনার পূর্বধলা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলম মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসআরবি সূত্রে আরও জানানো হয়, উদ্ধার হওয়া কিশোরীকে নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিন আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন