নির্দেশনা মেনে ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ শুরু

রিয়াজ উদ্দিন, কক্সবাজার

প্রকাশ: ২০:১২, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

নির্দেশনা মেনে ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ শুরু

এবারের পর্যটন মৌসুমে আগামী ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন পর্যটকরা। ভ্রমণের সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দৈনিক পর্যটক প্রবেশের সীমা দুই হাজার থেকে বাড়িয়ে সাড়ে তিন হাজার করা হয়েছে। তবে পরিবেশ সংরক্ষণে আগের আরোপিত বিধিনিষেধ বহাল থাকবে।

রোববার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরীনা রহমানের পাঠানো এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

নির্দেশনা অনুযায়ী, কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্টমার্টিন রুটে চলাচল করবে। এ জন্য জাহাজের মালিকদের বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ, নৌপরিবহন অধিদপ্তর এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হবে। পর্যটকদের প্রতিজনকে দিতে হবে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি।

পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত ওয়েব পোর্টাল থেকে অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। টিকিটের সঙ্গে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড থাকতে হবে। কিউআর কোড ছাড়া টিকিট অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। নভেম্বর মাসে দিনে ভ্রমণ করা গেলেও রাত্রিযাপন করা যাবে না। পরবর্তী সময়ে রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকবে।

দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি ও বারবিকিউ পার্টি নিষিদ্ধ থাকবে। কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও বিক্রি এবং সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ সব ধরনের মোটরচালিত যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ। পলিথিন ও একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিকের ব্যবহারও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর জারি করা বিধিনিষেধও বহাল থাকবে।

নির্ধারিত ১৩৫ দিনে প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক ভ্রমণ করলে পুরো মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা দাঁড়াবে চার লাখ ৭২ হাজার ৫০০ জনে। এ হিসাবে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি বাবদ আদায় হতে পারে চার কোটি ৭২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

জাহাজ চলাচলের প্রস্তুতি, লোকসানের শঙ্কা

দীর্ঘ বিরতির পর সেন্টমার্টিন ভ্রমণের অনুমতি পাওয়ায় পর্যটক, পর্যটন ব্যবসায়ী ও দ্বীপের বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে বিধিনিষেধ বহাল থাকায় পর্যটন ব্যবসার সম্ভাব্য আয় নিয়ে সংশয়ও রয়েছে।
সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলকারী পর্যটকবাহী জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর বলেন, ১ নভেম্বর থেকে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে আগে থেকেই সরকারি ইঙ্গিত ছিল। সে অনুযায়ী আগ্রহী জাহাজগুলো প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রায় ১০টি জাহাজ চলাচলের জন্য প্রস্তুত থাকলেও এখনো সরকারি অনুমোদন পাওয়া যায়নি। শিগগিরই অনুমোদনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন তারা।

স্কোয়াব সভাপতি তোফায়েল আহমেদ বলেন, প্রায় ১০টি জাহাজ চলাচলের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে পর্যটকের সংখ্যা প্রত্যাশা অনুযায়ী না হলে জাহাজগুলো আসন খালি রেখেই চলাচল করতে হবে। এতে মালিকদের লোকসান গুনতে হতে পারে।

সেন্টমার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহিম জিহাদী জানান, দ্বীপে প্রায় ১৫০টি আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে অন্তত পাঁচ হাজার পর্যটকের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। পর্যটকদের আগমন শুরু হলে দীর্ঘ নয় মাসের স্থবিরতা কাটিয়ে পর্যটন ব্যবসা আবারও চাঙা হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনী জাহান বলেন, ১ নভেম্বর থেকে জাহাজ চলাচল শুরুর বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। আগ্রহী জাহাজগুলোর অনুমোদনপ্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।

আরও পড়ুন