মোঃআহছান উল্লাহ,কুমিল্লা
প্রকাশ: ১৮:০২, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কর্তৃক অনুমোদিত মূল নকশা ও কাঠামো পরিবর্তন করে অবৈধভাবে চলাচলের অভিযোগে পাঁচটি বিলাসবহুল এসি স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ ও বিআরটিএ-এর সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে বাসগুলোকে মোট ৯৫ হাজার টাকা প্রসিকিউশন (জরিমানা) করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অঞ্চলের বিভিন্ন কৌশলগত পয়েন্টে এ যৌথ চিরুনি অভিযান পরিচালিত হয়।
টাস্কফোর্স সূত্রে জানা গেছে,পরিবহন সংস্থাগুলো বিআরটিএ থেকে সাধারণ চেয়ার কোচের অনুমোদন নিয়ে পরবর্তীতে আইনবহির্ভূতভাবে সেগুলোর ভেতরের কাঠামো কেটে দোতলা সিট বা ঘুমানোর উপযোগী 'স্লিপার ক্যাবিন' তৈরি করেছে।অভিযানে নকশাবহির্ভূত ও অতিরিক্ত আসন সংযোজনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় এভারগ্রীন,গোল্ডেন লাইন,ইম্পেরিয়াল, নীলাচল ও গ্রিন লাইন পরিবহনের একটি করে মোট পাঁচটি এসি স্লিপার বাসকে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা করা হয়।
নৈশকালীন এ অভিযানে সম্মুখভাগে থেকে নেতৃত্ব দেন হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কীর্তিমান চাকমা, বিআরটিএ কুমিল্লা জোনের সহকারী পরিচালক ফারুক আহাম্মদ,ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন এবং মিয়াবাজার হাইওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ নিরঞ্জন কুমার।
অভিযান প্রসঙ্গে হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কীর্তিমান চাকমা জানান,বিআরটিএ-এর পক্ষ থেকে এ ধরনের স্লিপার কোচের কোনো বৈধ অনুমোদন বা রুট পারমিট দেওয়া হয়নি। মূল কাঠামো কেটে ও উচ্চতা বাড়িয়ে দোতলা স্লিপার বাসে রূপান্তর করায় তীব্র গতিতে চলার সময় এগুলোর ভারসাম্য হারানোর এবং উল্টে গিয়ে বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা ঘটার চরম ঝুঁকি থাকে। যাত্রীদের জীবন নিয়ে এ ধরনের ছিনিমিনি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
এর আগে গত ১৫ অক্টোবর মহাসড়কের একই অংশে পরিচালিত অপর এক অভিযানে সেন্ট মার্টিন স্কয়ার, বেঙ্গল পরিবহন, দোয়েল এক্সপ্রেস ও রয়েল কোচ পরিবহনের চারটি এসি স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে মোট ৬০ হাজার টাকা প্রসিকিউশন করা হয়েছিল।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়কে ফিটনেস ও রুট পারমিটহীন যান চলাচল বন্ধে সম্প্রতি মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ অত্যন্ত কঠোর নির্দেশনা জারি করেছেন। বিআরটিএ-এর পক্ষ থেকে আদালতকে সুস্পষ্টভাবে জানানো হয় যে, সংস্থাটি এখন পর্যন্ত দূরপাল্লার কোনো স্লিপার বাসের বাণিজ্যিক নকশার অনুমোদন দেয়নি। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ২৮ ও ৮৪ অনুযায়ী, অনুমোদিত স্পেসিফিকেশন ও নকশা লঙ্ঘন করে যানবাহন চালানো ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা ও কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধ। এই আইনি বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতেই মাঠপর্যায়ে টাস্কফোর্সের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশ ও বিআরটিএ যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, সড়ক দুর্ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামানো এবং দূরপাল্লার যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে নিয়ম লঙ্ঘনকারী ও অনুমোদনহীন এসি স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে এই বিশেষ মোবাইল কোর্ট ও আইনগত অভিযান আগামী দিনগুলোতেও পুরোদমে অব্যাহত থাকবে।