জাকির ফরাজী, পিরোজপুরঃ
প্রকাশ: ১৮:৩৯, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
মাগুরার শালিখায় বিএনপি নেতা মশিয়ার রহমান হত্যা মামলায় পিরোজপুরের ইন্দুরকানী থানায় কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল হোসেন ও পুলিশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার নাথকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তালেবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বুধবার (২৮ অক্টোবর) মাগুরার শালিখা আমলি আদালতে হাজির করা হলে বিচারক বর্ণালী রানী তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী থানায় কর্মরত অবস্থায় এসআই ইসমাইল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন বরিশাল নৌ-পুলিশে কর্মরত সাবেক ওসি বিপ্লব কুমার নাথকেও গ্রেপ্তার করে মাগুরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাঁরা দুজনই এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। ইসমাইলের গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর কামরুজ্জামান জানান, মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শালিখা উপজেলার শতখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি ও ছয়ঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মশিয়ার রহমানকে তাঁর বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যান তৎকালীন শালিখা থানার ওসি বিপ্লব কুমার নাথ ও এসআই ইসমাইল হোসেন। পরে তাঁকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। সে সময় ঘটনাটিকে ‘ক্রসফায়ার’ হিসেবে দেখিয়ে শালিখা থানায় একটি মামলা করা হয়েছিল।
নিহতের স্ত্রী হাসিনা বেগম ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর আদালতে হত্যা মামলা করেন। এতে সাবেক ওসি বিপ্লব কুমার নাথ ও এসআই ইসমাইল হোসেনসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। আদালতের নির্দেশে শালিখা থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি তিনি।
স্থানীয় লোকজন ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালনের সময় এই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ‘ক্রসফায়ারের’ নামে হত্যা এবং এ ধরনের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনকে একাধিকবার ফোন ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।
শালিখা থানার ওসি মো. আশিকুর রহমান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন। তবে এ বিষয়ে তাঁকে কিছু জানানো হয়নি।
ইন্দুরকানী থানার ওসি মো. মহব্বত খান বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত বলার জন্য তিনি অনুমোদিত নন।
পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ইসমাইল মাগুরার শালিখা থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিনি ইন্দুরকানী থানায় কর্মরত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সাবেক ওসি বিপ্লব কুমার নাথ যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথের জামাতা। দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানোর মধ্য দিয়ে মশিয়ার রহমান হত্যা মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতি হয়েছে।