রঞ্জিত কুমার শীল
প্রকাশ: ২০:১৯, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতিতে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। ইউনিটটিতে শুরু হয়েছে ‘পাওয়ার স্টার্টআপ স্টেজ-সি’ কার্যক্রম। তবে এখনো পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়নি। এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, পরিচালনব্যবস্থা ও নিরাপত্তা সরঞ্জামের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) চেয়ারম্যান বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি) এবং এনপিসিবিএলকে প্রথম ইউনিটে স্টেজ-সি কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দেন। অনুমোদনের পরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
স্টেজ-সি হলো প্রথম ইউনিটের কমিশনিং প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও সমন্বিত পরিচালনক্ষমতা যাচাই করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে রিঅ্যাক্টর, প্রাথমিক ও দ্বিতীয় পর্যায়ের শীতলীকরণ ব্যবস্থা, টারবাইন-জেনারেটর, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, যন্ত্রপাতি নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণব্যবস্থা এবং রিঅ্যাক্টর সুরক্ষা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা।
এ ছাড়া রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত পরীক্ষা ও মূল্যায়ন করা হবে। বিশেষ করে টারবাইনের নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষাব্যবস্থা, জেনারেটর এবং সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের কার্যক্ষমতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও যাচাই করা হবে।
এ পর্যায়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করার পর প্রথম ইউনিটের জেনারেটরকে জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘সিনক্রোনাইজেশন’। এর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। তবে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে এ কার্যক্রম ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে।
এনপিসিবিএল জানায়, প্রথম ইউনিটে স্টেজ-সি কার্যক্রমের অনুমোদন ও সূচনা বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির কমিশনিং প্রক্রিয়ায় একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। এ পর্যায়ের সব কার্যক্রমে পারমাণবিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।