সংসার সামলে ১৪ বছর পর পড়াশোনা, এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেন রীতি

আরিফুল ইসলাম, জয়পুরহাট

প্রকাশ: ২২:৪৭, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

সংসার সামলে ১৪ বছর পর পড়াশোনা, এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেন রীতি

বিয়ের পর সংসারের ব্যস্ততায় পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যেতে হয়েছিল। এরপর পেরিয়ে গেছে এক যুগেরও বেশি সময়। কিন্তু পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারাননি জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার গৃহবধূ রীতি খাতুন (৩০)। স্বামীর উৎসাহে ১৪ বছর পর আবারও শিক্ষাজীবনে ফিরে এসে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন তিনি। তাঁর এই সাফল্যে আনন্দিত পরিবার ও স্বজনেরা।

রীতি খাতুন উপজেলার নসিরপুর গ্রামের আব্দুল আলিম মন্ডল বাবুর স্ত্রী। তিনি ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা (বিএম) শাখা থেকে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।

জানা যায়, ২০১০ সালে মোলামগাড়িহাট দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন রীতি। ২০১১ সালে বিয়ের পর সংসার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায় তাঁর পড়াশোনা। বর্তমানে ১১ বছর বয়সী এক মেয়ের মা তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৪ সালে স্বামীর উৎসাহে নতুন করে পড়াশোনা শুরুর সিদ্ধান্ত নেন। ভর্তি হন কলেজে।

নতুন করে পড়াশোনায় ফেরার পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সংসারের দায়িত্ব সামলে পড়ার সময় বের করা। এর পাশাপাশি সামাজিকভাবে নানা কথাও শুনতে হয়েছে তাঁকে। প্রতিবেশীদের উপহাস উপেক্ষা করে নিজের লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন রীতি। স্বামীর সহযোগিতা ও শিক্ষকদের পরামর্শ নিয়ে চালিয়ে গেছেন পড়াশোনা। শেষ পর্যন্ত পরীক্ষার ফলাফলে মিলেছে সেই পরিশ্রমের স্বীকৃতি।

রীতি খাতুন বলেন, স্বামীর সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা ছাড়া এই বয়সে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে কঠিন হতো। সংসারের কাজ সামলে নিয়মিত পড়তে হয়েছে। এই অর্জনে শিক্ষকদেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

রীতির স্বামী আব্দুল আলিম মন্ডল বাবু বলেন, স্ত্রীর পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখে তাঁকে কলেজে ভর্তি করান। তাঁর এমন ফলাফলে পরিবারের সবাই খুব খুশি।

ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সায়ফুল ইসলাম বলেন, পারিবারিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রীতির এই অর্জন নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য। তাঁর চেষ্টা ও অধ্যবসায় অন্যদেরও পড়াশোনায় আগ্রহী করে তুলবে।

আরও পড়ুন