আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩:৩৭, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার (৩১ অক্টোবর) আইএমডির পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন আন্দামান সাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে শনিবার দুপুরে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।
তামিল ভাষার ‘মুরাসু’ শব্দের অর্থ ঢোল। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির নাম প্রস্তাব করেছে ভারত। ঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদফতরের মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, আগামী ৩ নভেম্বর সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। তবে সম্প্রতি আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তুলনায় এর শক্তি কম হতে পারে।
যেসব এলাকায় ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা
সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারতের কয়েকটি রাজ্যে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২ নভেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকা ও পুদুচেরির ইয়ানামে বিচ্ছিন্নভাবে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে। পরদিন এসব এলাকায় ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়া ২ ও ৩ নভেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের রায়ালসীমা অঞ্চলে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে, ওড়িশার উপকূলীয় এলাকায় ৩ ও ৪ নভেম্বর ভারি বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
বাতাসের গতিবেগ বাড়তে পারে ১০০ কিলোমিটার
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ১ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তর তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি উপকূলে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
২ নভেম্বর বিকেলে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৫ থেকে ৭৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার বেগ উঠতে পারে ঘণ্টায় ৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত। ওই দিন সন্ধ্যা থেকে ৩ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার থাকতে পারে। এ সময় দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলে ২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে ঝোড়ো হাওয়া শুরু হতে পারে। ৩ নভেম্বর ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। ৪ নভেম্বর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছে আইএমডি।
এর আগে গত ২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলে আঘাত হেনেছিল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। সে সময় ঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। নতুন সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি তুলনামূলক দুর্বল হলেও উপকূলীয় এলাকায় ভারি বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।