আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১:৫০, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
বুধবার (২৮ অক্টোবর) মধ্য স্পেনের কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের উর্দা শহরের কাছে মোরা ও অর্গাজ এলাকার মাঝামাঝি স্থানে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সেভিলের মধ্যে চলাচলকারী দুটি ট্রেনে প্রায় ৫৪০ জন যাত্রী ছিলেন। সরকারি সংস্থা রেনফের পরিচালিত একটি ট্রেনের সঙ্গে বেসরকারি সংস্থা ইরিওর আরেকটি ট্রেনের এই সংঘর্ষ হয়। রেললাইনের সামনে থেমে থাকা ইরিওর ট্রেনটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয় রেনফের ট্রেনটি।
বুধবার সকাল ৯টার কিছু পর ঘটা এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই অন্তত ৬৮ জনের প্রাণহানির মতো বড় হতাহতের ঘটনা ঘটে। আঞ্চলিক জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের বিভিন্ন হাসপাতালে অন্তত ১০৭ জন ভর্তি রয়েছেন। স্পেনের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম ‘এল পাইস’-এর তথ্যমতে, চিকিৎসাধীনদের মধ্যে অন্তত ১৮ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। সব মিলিয়ে এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুরো স্পেন শোকাহত।’ একই বছরে এ ধরনের দুটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার জেরে স্পেন সরকারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী মাদ্রিদে তীব্র বিক্ষোভ হয়েছে। স্পেনের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম টিভিই ও ‘টাইমস অব ওমান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কট্টর ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর আয়োজিত ওই বিক্ষোভে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ অংশ নেন। পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সামনে শুরু হওয়া বিক্ষোভ একপর্যায়ে সহিংস রূপ নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
আন্তর্জাতিক সংহতি ও ফুটবল ম্যাচ স্থগিত স্পেনের এই জাতীয় ট্র্যাজেডির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কমিশনের সদর দপ্তরের বাইরে ইইউর পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। এছাড়া নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বুধবারের জন্য নির্ধারিত স্পেনের ফুটবল কাপের ২০টিরও বেশি ম্যাচ স্থগিত করেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।