শেয়ারবিজনেস ডেস্ক
প্রকাশ: ২১:২৮, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১৯৩৬ সালের ১৬ জুলাই জাপানের গুন্মা প্রিফেকচারের তাকাসাকি শহরে জন্মগ্রহণ করেন ফুকুদা। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি একটি তেল কোম্পানিতে চাকরি করতেন। পরবর্তী সময়ে বাবার রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। তাঁর বাবা তাকেও ফুকুদাও জাপানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
১৯৯০ সালে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ইয়াসুও ফুকুদা। এরপর টানা সাতবার নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় একসময় জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারির দায়িত্বও পালন করেন।
২০০৭ সালে শিনজো আবের পদত্যাগের পর ৭১ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন ফুকুদা। তাঁর বাবা ও তিনি একই বয়সে জাপানের সরকারপ্রধান হয়েছিলেন। বাবা-ছেলের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ঘটনা জাপানের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।
সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব দেন ফুকুদা। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে উদ্যোগী ছিলেন তিনি। চীনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। পূর্ব চীন সাগরে গ্যাসক্ষেত্র যৌথভাবে উন্নয়নের বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
২০০৮ সালে জাপানে অনুষ্ঠিত জি-৮ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ফুকুদা। ওই সম্মেলনে পরিবেশ ও জলবায়ুসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে একই বছরের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। পরে ২০১২ সালে সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেন।
ফুকুদার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন জাপানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তিনি বলেন, ফুকুদার অভিজ্ঞতা ও বিচক্ষণতা বিভিন্ন জটিল সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। জাপানের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির মর্যাদা বৃদ্ধিতে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।