ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার প্রায় এক হাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১০:৪৯, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার প্রায় এক হাজার

ফ্রান্সে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিতে ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের প্রতিবাদে শনিবার দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। রাজধানী প্যারিসে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল থেকে শেষ পর্যন্ত ফের পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা।

প্যারিস কর্তৃপক্ষের বরাতে বার্তা সংস্থা এপি জানায়, এদিন ফ্রান্সে চার লাখের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। তবে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় প্রায় এক হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত সপ্তাহে দেশটিতে বিক্ষোভের সময় ব্যাপক দাঙ্গা, লুটপাট ও সহিংসতার পর শনিবারের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হয়েছিল। তবে প্যারিসের পূর্বাঞ্চলে মিছিলের শেষ প্রান্তে পৌঁছানোর পর মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ও আতশবাজি ছুড়তে শুরু করেন। জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে।

পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাকর হয়ে উঠলে পুলিশ সদস্যরা মাইকে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ হওয়ার নির্দেশ দেন। তবে তাদের মাঝখানে কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টার পড়লে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে চিৎকার করতে করতে দৌড়ে পালাতে থাকেন।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এদিন সারা দেশে মোট ২৮৯টি বিক্ষোভ কর্মসূচির হিসাব দিয়েছে। তাদের হিসাবে এতে চার লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন। আগের সপ্তাহান্তে এই সংখ্যা ছিল সাড়ে পাঁচ লাখ। তবে শনিবারের কয়েকটি বিক্ষোভের অন্যতম আয়োজক শ্রমিক সংগঠন সিজিটি দাবি করেছে, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় আট লাখ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, শুধু প্যারিসেই বিক্ষোভ করেছেন এক লাখ ১০ হাজার মানুষ। তবে সিজিটির দাবি, রাজধানীতে আড়াই লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভ মিছিলের পথ প্যারিসের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে সীমাবদ্ধ রেখেছিল, যাতে বিক্ষোভকারীরা শহরের কেন্দ্রস্থলে প্রবেশ করতে না পারে

সন্ধ্যার দিকে মার্সেই ও লিওঁ শহরের সড়কে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। ফরাসি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, লিওঁ, ক্লেরমঁ-ফেরঁ, স্ত্রাসবুর ও বোর্দো শহরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে। নিস ও নঁত শহরে ব্যবহার করা হয়েছে জলকামান।

নিস শহরের কেন্দ্রস্থলে কট্টর ডানপন্থীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনিয়েজ জানিয়েছেন, পুলিশ প্রায় এক হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে সব এলাকার হিসাব যুক্ত হলে গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, আগের সপ্তাহের মতো ব্যাপক লুটপাট ও দোকানপাটের ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে এবার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। হেলিকপ্টার, সাঁজোয়া যান ও অন্যান্য সরঞ্জামের সহায়তায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। এর ফলে এবার ব্যাপক সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন