চৌফলদণ্ডীতে প্রবারণা পূর্ণিমায় ১০০ পরিবার পেল খাদ্যসহায়তা

রিয়াজ উদ্দিন, কক্সবাজার

প্রকাশ: ২২:৩২, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

চৌফলদণ্ডীতে প্রবারণা পূর্ণিমায় ১০০ পরিবার পেল খাদ্যসহায়তা

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমাকে ঘিরে কক্সবাজারের চৌফলদণ্ডীতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এ উপলক্ষে ১০০টি অসহায় পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ এবং রাখাইন সম্প্রদায়ের চারটি পরিবারকে ঘর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এলাকার চারটি বৌদ্ধবিহার পরিদর্শন করে উৎসবের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চৌফলদণ্ডীর বিভিন্ন রাখাইন পল্লি পরিদর্শনকালে তিনি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় দক্ষিণ চৌফলদণ্ডী দক্ষিণ রাখাইন পাড়ার দক্ষিণারাম বৌদ্ধবিহারে ১০০টি পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে স্যানিটাইজার, সাবান, ডিটারজেন্ট পাউডার ও স্যানিটারি প্যাড বিতরণ করা হয়।

পরিদর্শনকালে ইউএনও তাহমিনা আক্তার বলেন, সব ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব স্বাধীনভাবে, নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে।

প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্‌যাপনে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানোয় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনকে ধন্যবাদ জানান তিনি। ইউএনও বলেন, চৌফলদণ্ডীর রাখাইন পাড়াগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। উৎসব নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

চৌফলদণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনজুর আলম বলেন, প্রবারণা পূর্ণিমা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্‌যাপন নিশ্চিত করতে ইউএনও তাঁকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দিয়েছেন। সে অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরে রাখাইন পাড়াগুলোর পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় ও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, চৌফলদণ্ডীতে রাখাইন ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ আপন ভাইবোনের মতো মিলেমিশে বসবাস করেন। সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানেও তাঁরা পারস্পরিক সহযোগিতা করে আসছেন। এ সম্প্রীতির কারণে প্রবারণা পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

চৌফলদণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি উচাছিং রাখাইন বলেন, প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে প্রশাসনের সঙ্গে তাঁদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। উৎসবে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে চৌফলদণ্ডীতে প্রবারণা পূর্ণিমার আয়োজন সম্পন্ন হবে এবং দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্যমান সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন