আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩:২৭, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
নির্বাচনের ভোট গণনা শেষ হলেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনে কোনো পক্ষ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলগুলো জোট গঠনে ব্যর্থ হলে নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকতে পারেন। তবে নির্বাচনের ফল নিয়ে তাঁর ‘কারচুপি’র অভিযোগ এবং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
নির্বাচন-পরবর্তী বক্তব্যে নেতানিয়াহু বিশেষভাবে আরব দলগুলোর আসনপ্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। গত নির্বাচনে আরব দলগুলো ১৯টি আসন পাওয়ার পর তিনি এ ফলকে বিদেশি হস্তক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত করে অবৈধ বলে দাবি করছেন। তবে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেট ও নির্বাচন কমিশন অনিয়মের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে নেতানিয়াহু বিরোধী দলগুলোর সম্ভাব্য জোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছেন। বিশেষ করে ইহুদি ও আরব দলগুলোর সমন্বয়ে সরকার গঠনের উদ্যোগকে জনসমর্থনের বাইরে রাখার চেষ্টা থাকতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আবার নির্বাচন হলে ডানপন্থী সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং আরব ভোটারদের অংশগ্রহণ কমানোর রাজনৈতিক কৌশলও এতে কাজ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সংসদের ১২০টি আসনের মধ্যে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের আসন ৫৩টি। এর মধ্যে ৪০টি আসন জায়নবাদী দলগুলোর এবং বাকি ১৩টি আল্ট্রা-অর্থোডক্স ধর্মীয় দলগুলোর। অন্যদিকে, ইহুদি-ভিত্তিক বিরোধী দলগুলোর আসন রয়েছে ৪৮টি। এই হিসাব অনুযায়ী, সরকার পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা নেতানিয়াহুর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি তাঁর জোটে মতবিরোধ বাড়িয়েছে। আল্ট্রা-অর্থোডক্স দলগুলো এ ক্ষেত্রে ছাড় চাইলেও সামরিক বাহিনীতে সবার অংশগ্রহণের পক্ষে ইসরায়েলের বড় একটি অংশ। ফলে এ বিষয়ে আইন পাস করানোও নেতানিয়াহুর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতায় থাকার আইনি সুযোগ থাকলেও সংসদে পর্যাপ্ত সমর্থন না থাকলে কার্যকর সরকার পরিচালনা কঠিন হবে। জোটের শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা করতে না পারলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা আরও বাড়তে পারে। এতে নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল