এস কে রবিউল ইসলাম, খুলনা
প্রকাশ: ০০:৩২, ১ নভেম্বর ২০২৬
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের এই ভয়াবহ তথ্য পাওয়া গেছে।
খুলনার যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে এবার একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি সেগুলো হলো— ডুমুরিয়ার মডেল মহিলা কলেজ, খুলনা সদরের ইনডিপেনডেন্ট আইডিয়াল কলেজ, পাইকগাছার কপিলমুনি সহচারী বিদ্যা মন্দির কলেজ, কয়রার শাকবাড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস কলেজ এবং খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
কপিলমুনি সহচারী বিদ্যা মন্দিরে টানা দুই বছর শূন্য পাস
শতভাগ ফেল করা এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে আশঙ্কাজনক ও বিস্ময়কর তথ্য এসেছে পাইকগাছার কপিলমুনি সহচারী বিদ্যা মন্দির কলেজ থেকে। বিগত ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হন। ২০২৬ সালেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল— একজন পরীক্ষার্থীও পাসের মুখ দেখতে পাননি।
টানা দুই বছর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করার ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কলেজটির শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষকদের পাঠদানের মান ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
শিক্ষা বোর্ডের কঠোর হুঁশিয়ারি
টানা ফলাফল বিপর্যয় ও পাসের হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসার পেছনে কারণ কী, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
এ বিষয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন জানান, গত বছর (২০২৫ সালে) যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছিল, তাদের প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ (শো-কজ) দেওয়া হয়েছিল এবং শুনানিতে তাঁদের বক্তব্য শোনা হয়েছে। কারণগুলো বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "চলতি বছরও যেসব প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন, তাঁদের প্রধানদের কাছেও কৈফিয়ত চাওয়া হবে। যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা দিতে না পারলে প্রয়োজনে এসব প্রতিষ্ঠানের অধিভুক্তি নবায়ন বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।