এইচএসসি ফলাফল: জামালপুরে ৪ প্রতিষ্ঠানের সবাই ফেল

মোঃ আমিনুল ইসলাম, বকশীগঞ্জ (জামালপুর)

প্রকাশ: ১৮:২৬, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

এইচএসসি ফলাফল: জামালপুরে ৪ প্রতিষ্ঠানের সবাই ফেল

২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় জামালপুরের চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া ২২ জন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য শতাংশ। এর মধ্যে মেলান্দহ উপজেলার একটি কলেজ টানা দুই বছর ধরে কোনো পরীক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ করাতে পারেনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।

বোর্ডের ফলাফল অনুযায়ী, জামালপুর সদর উপজেলার শ্রীপুর কুমারিয়া নাসুবা হাকিম বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এ বছর ছয়জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের চর সগুনা এলাকায় অবস্থিত এসএম শিখা মুখলেছুর রহমান কলেজ থেকেও কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। এ বছর কলেজটি থেকে ব্যবসায় শিক্ষা শাখার দুজন ও মানবিক শাখার দুজনসহ মোট চারজন পরীক্ষায় অংশ নেন। এর আগে ২০২৫ সালেও কলেজটি থেকে ব্যবসায় শিক্ষা শাখার চারজন ও মানবিক শাখার ছয়জনসহ মোট ১০ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছিলেন। ফলে টানা দুই বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য।

এ ছাড়া মাদারগঞ্জ উপজেলার নব্বচর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পাঁচজন এবং ইসলামপুর উপজেলার গোয়ালেরচর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে সাতজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

চারটি প্রতিষ্ঠানের এমন ফলাফলের কারণ জানতে চাইলে নব্বচর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ জানান, প্রতিষ্ঠানটি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। ফলে শিক্ষকেরা জীবিকা নির্বাহের জন্য অন্যান্য পেশায় যুক্ত থাকায় নিয়মিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। গত বছরের তুলনায় এবার ফলাফল আরও খারাপ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামীতে এ পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা হবে।

অন্যদিকে, গোয়ালেরচর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আফসানা তাসলিম জানান, জেলার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য হওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে নিবিড় তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হবে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন