ভবেশ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি:
প্রকাশ: ১৯:৪৪, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
এ বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় পাসের হার সামান্য কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। এবার বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২৯ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৯৭।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের মিলনায়তনে ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী।
ফলাফল বিশ্লেষণে তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার বোর্ডের পাসের হার প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে। অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া এবং একই পদ্ধতিতে খাতা মূল্যায়নের কারণে ফলাফল যথাযথ হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, এ কারণে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আরও জানান, প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। শুরুর দিকের পরীক্ষাগুলোতে এ কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা ভীতি কাজ করতে পারে। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা কয়েক দিন বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়ে থাকতে পারে।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ১১৪টি কেন্দ্রে ২৮০টি কলেজের মোট ৯৬ হাজার ৩৩৫ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছেলেদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং মেয়েদের ৫৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
জেলাভিত্তিক ফলাফলে খাগড়াছড়িতে পাসের হার ২৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। রাঙামাটিতে ৩৩ দশমিক ২৪, বান্দরবানে ৪১ দশমিক ৪২ এবং কক্সবাজারে ৪৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। অপরদিকে চট্টগ্রাম মহানগরীতে পাসের হার ৬৬ দশমিক ২০ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার সর্বোচ্চ ৭৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এ হার ৫৪ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং মানবিক বিভাগে ৩৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
চলতি বছরের ২ জুলাই দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। বৈরী আবহাওয়া ও বন্যার কারণে ৮ জুলাই চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। পরে ২৭ জুলাই নিয়মিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা শুরু হয়। স্থগিত পরীক্ষাগুলো ২০ আগস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়।