নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০:৩৯, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তার সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এ ঘটনায় পুলিশের প্রতি জনমনে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়েছে এবং জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ২০ অক্টোবর রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন পুলিশ হাউজিং-১ এলাকার ওই তিনতলা বাড়িতে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বাড়িটির মালিক আব্দুল্লাহ আল জহির তখন পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি (পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট-২) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ডিবি জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে সারা রাত ডিজে পার্টি, মাদক সেবন ও মাদকের কারবার চলার অভিযোগ ছিল। অভিযানে ২৬ নারী ও ৫৮ পুরুষসহ মোট ৮৪ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে আফগানিস্তানের একজন নাগরিকও ছিলেন।
অভিযানকালে বাড়ি থেকে গাঁজা, ইয়াবা, মদ এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। পরে বাড়ির মালিক আব্দুল্লাহ আল জহিরকে ওএসডি করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।
ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, আব্দুল্লাহ আল জহির এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বাড়িটি ভাড়া দিয়েছিলেন। সেখানে ডিজে পার্টির পাশাপাশি মাদক সেবন চলছিল।
ডিবির উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ইলিয়াস কবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িটি একজন হোস্ট ও কো-হোস্টের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। এ ঘটনায় কো-হোস্ট মাহবুবুল আলমকে আটক করা হয়েছিল।
তবে বাড়ির মালিক আব্দুল্লাহ আল জহিরের দাবি ছিল, বাড়িটি এয়ারবিএনবি ও ট্রাভেলার প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত ছিল। জন্মদিনের অনুষ্ঠান কিংবা গায়ে হলুদের মতো আয়োজনের জন্য বাড়ির উঠান ভাড়া দেওয়া হতো। সেখানে মাদক বা অন্য কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
ভাড়া দেওয়া বাড়িতে ভাড়াটিয়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে তার দায় বাড়ির মালিকের ওপর বর্তানো উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেছিলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।