মাগুরায় এইচএসসিতে ফেল ২ হাজার ৪৪৯, দুই কলেজে পাস করেনি কেউ

রাজিব হোসেন মাগুরা প্রতিনিধি: 

প্রকাশ: ২০:২৭, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

মাগুরায় এইচএসসিতে ফেল ২ হাজার ৪৪৯, দুই কলেজে পাস করেনি কেউ

মাগুরায় ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে দেখা দিয়েছে হতাশাজনক চিত্র। জেলার দুটি কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। প্রতিষ্ঠান দুটির মোট ১৭ পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে একটি কলেজে টানা দুই বছর কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এদিকে জেলার ৩৫টি কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৬ হাজার ৫৫৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছে ২ হাজার ৪৪৯ জন।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে। জেলার সার্বিক ফলাফলও সন্তোষজনক নয়। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় জেলার শিক্ষার মান, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, মাগুরা সদর উপজেলার বজরুক শ্রীকুণ্ডী কলেজ থেকে এবার ১৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের একজনও পাস করতে পারেনি। একই উপজেলার গোপীনাথপুর এম এ খালেক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুই শিক্ষার্থীর ফলাফলও অকৃতকার্য এসেছে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠান দুটির ১৭ পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছে। এর মধ্যে বজরুক শ্রীকুণ্ডী কলেজ থেকে টানা দুই বছর কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্যানুযায়ী, এবার মাগুরা জেলার ৩৫টি কলেজ থেকে মোট ৬ হাজার ৫৫৬ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪ হাজার ১০৭ জন। অন্যদিকে অকৃতকার্য হয়েছে ২ হাজার ৪৪৯ জন। জেলার পাসের হার ৬২ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, জেলার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। বিশেষ করে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনা অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, পর্যাপ্ত শিক্ষক, পাঠদানের মান, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের ফলাফল থেকে উত্তরণ কঠিন।

মাগুরা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সহীলউদ্দীন বলেন, শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়া দুটি কলেজই নন-এমপিওভুক্ত। শিক্ষকসংকট, পাঠদানের দুর্বলতাসহ বিভিন্ন কারণে এমন ফলাফল হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ নির্ধারণে প্রতিষ্ঠান দুটির সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, কলেজ পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাঁর সরাসরি দায়িত্বের আওতাভুক্ত নয়। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ তাঁর নেই। তবে মাধ্যমিক পর্যায়ের কোনো বিদ্যালয়ে ফলাফল বিপর্যয় ঘটলে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে মাগুরার জেলা প্রশাসক মো. মোতাকাব্বীর আহমেদ বলেন, ‘সাময়িকভাবে পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হলেও আমরা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছি। এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছেছে যে, পড়াশোনা ছাড়া পরীক্ষায় পাস করার সুযোগ নেই। যারা অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। নতুন করে প্রস্তুতি নিয়ে আবারও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে ভালো ফলাফলের জন্য নিয়মিত পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন