লক্ষ্মীপুরে পাঁচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সবাই ফেল

আব্দুল আহাদ, লক্ষ্মীপুর

প্রকাশ: ১৬:১৮, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

লক্ষ্মীপুরে পাঁচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সবাই ফেল

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় লক্ষ্মীপুর জেলার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ১৯ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। ফলাফল প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও সচেতন মহলে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

জেলায় এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় মোট ৮ হাজার ৭৭৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩ হাজার ৬২৪ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ হাজার ১৫৩ জন। জেলায় পাসের হার ৪১ দশমিক ২৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮১ জন শিক্ষার্থী।

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফজুমিয়ার হাট হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ৭ জন, পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৬ জন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মমতাজ উদ্দিন আলোকিত কলেজের ৩ জন, তোরাবগঞ্জ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ২ জন এবং ক্যামব্রিজ সিটি কলেজের ১ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি।

এদিকে, পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগ, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া এবং প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারির অভাবের কারণে এমন ফলাফল হয়েছে।

জেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা অগ্রযাত্রা প্রতিদিনকে জানান, এসব প্রতিষ্ঠান থেকে কেন একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এমরান হোসেন শিপকেও ফোন দেওয়া হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে তোরাবগঞ্জ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন বাহার অগ্রযাত্রা প্রতিদিনকে বলেন, কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে সেখানে কোনো শিক্ষক নেই। অতিথি শিক্ষক দিয়ে কোনোভাবে পাঠদান কার্যক্রম চালানো হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার প্রতিও মনোযোগের অভাব রয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মেজবা উল আলম ভূঁইয়া অগ্রযাত্রা প্রতিদিনকে জানান, শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী যেসব কলেজের কোনো শিক্ষার্থী পাস করেননি, সেসব প্রতিষ্ঠানে চিঠি দেওয়া হবে। পরে সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন