মোঃ দিদারুল ইসলাম, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১৬:২৭, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার (৩১ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘ অনুসন্ধান ও নজরদারির পর নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে সানিকে গ্রেফতার করা হয়।
জেলা পুলিশের দাবি, সানি বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সহযোগী। একসময় বিদেশে থাকা সানি বড় সাজ্জাদের নির্দেশনায় গত বছর দেশে ফিরে চট্টগ্রামে আসেন। এরপর থেকে তিনি চাঁদাবাজি, মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। বড় সাজ্জাদ ও বোরহানের হয়ে বিভিন্ন অপরাধ পরিচালনা করতেন তিনি।
পুলিশের ভাষ্য, বড় সাজ্জাদের কাছ থেকে মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন পেতেন সানি। কারাগারে থাকা ডেভিড ইমনের পরিবর্তে চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়িত্বও তাকে দেওয়া হয়েছিল।
জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ আরও জানায়, চাঁদা দাবির পর নির্ধারিত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে কিংবা চাঁদা আদায়ে ব্যর্থ হলে সানির নির্দেশে স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের বাসা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা চালানো হতো।
গ্রেফতার সানির বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী থানায় পৃথক দুটি মামলা রয়েছে। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি ঘটনার অডিও রেকর্ডও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে এসেছে। অডিও রেকর্ডসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চাঁদাবাজির সঙ্গে সানির সংশ্লিষ্টতা, তার সহযোগীদের পরিচয় এবং অপরাধী চক্রের কার্যক্রম উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
জেলা পুলিশ আরও জানায়, ধারাবাহিক অভিযান ও গ্রেফতার তৎপরতার মুখে বড় সাজ্জাদ ও ডেভিড ইমনের নির্দেশনায় অপরাধে জড়িত চক্রের সদস্যরা চট্টগ্রাম ছেড়ে বিভিন্ন জেলায় আত্মগোপন করছে। তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।