এফডিআই বাড়লেও নতুন বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে প্রায় ৫%

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩:৫৪, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

এফডিআই বাড়লেও নতুন বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে প্রায় ৫%

বাংলাদেশে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়লেও নতুন মূলধন বিনিয়োগে গতি নেই। চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে নিট এফডিআই বেড়েছে ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। তবে এই প্রবৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে আগে থেকে দেশে ব্যবসা করা বিদেশি কোম্পানিগুলোর মুনাফা পুনর্বিনিয়োগের মাধ্যমে। বিপরীতে, নতুন ইকুইটি বিনিয়োগ কমেছে প্রায় ৫ শতাংশ। একই সময়ে বিদেশি কোম্পানিগুলোর আন্তঃকোম্পানি ঋণের নিট প্রবাহেও বড় পতন হয়েছে।

সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ মূলত তিন ধরনের—নিট পুনর্বিনিয়োগকৃত আয়, নিট ইকুইটি মূলধন বা নতুন বিনিয়োগ এবং নিট আন্তঃকোম্পানি ঋণ।

চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে দেশে নিট এফডিআই এসেছে ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার। এর মধ্যে ২৬ কোটি ৯ লাখ ১০ হাজার ডলার এসেছে আগে থেকে বিনিয়োগ করা বিদেশি কোম্পানিগুলোর মুনাফা পুনর্বিনিয়োগ থেকে। অর্থাৎ, মোট নিট এফডিআইয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশই এসেছে বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। ফলে সামগ্রিক এফডিআই বাড়লেও নতুন বিদেশি মূলধন আকর্ষণের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এ সময়ে নিট ইকুইটি বিনিয়োগ হয়েছে ৭ কোটি ৭৪ লাখ ২০ হাজার ডলার, যা আগের বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ কম।

অন্যদিকে, বিদেশি কোম্পানিগুলোর আন্তঃকোম্পানি ঋণের নিট প্রবাহ ৮৫ দশমিক ১৭ শতাংশ কমে ৮৬ লাখ ১০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ খাতে মোট ৩৩ কোটি ৩৮ লাখ ডলারের ঋণপ্রবাহ থাকলেও আগের ঋণ পরিশোধের কারণে নিট প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় নতুন বিনিয়োগে চাপ

এফডিআইয়ের এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ জানিয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও জ্বালানির উচ্চমূল্য নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে চাপ তৈরি করছে। এসব কারণে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে।

ইনভেস্ট বাংলাদেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন উইংয়ের সদস্য নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের মধ্যেও বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক। তবে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে নতুন ইকুইটি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এখনো চ্যালেঞ্জিং।

তিনি বলেন, দেশে আগে থেকে বিনিয়োগ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্বিনিয়োগ করা আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এটি বাংলাদেশের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা সম্পর্কে বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের আস্থার ইঙ্গিত দেয়। এ ধরনের বিনিয়োগ ব্যবসা সম্প্রসারণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে বিনিয়োগ পরিবেশের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। নাহিয়ান রহমান রচি জানান, সংস্থাটির ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইনে থাকা প্রকল্পগুলোকে বাস্তব বিনিয়োগ ও বাস্তবায়নের পর্যায়ে নিতে কাজ চলছে। সম্প্রতি কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ঘোষণাকেও তিনি আশাব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করেন।

অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ কমেছে

অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগের চিত্রও ইতিবাচক নয়। চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে এসব অঞ্চলে নিট এফডিআই এসেছে ৪ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ কম। যদিও আগের প্রান্তিকে এসব অঞ্চলে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলার।

অর্থাৎ, আগের প্রান্তিকের তুলনায় বিনিয়োগ বাড়লেও বছরওয়ারি হিসাবে তা কমেছে।

অন্যদিকে, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বা ইপিজেডের বাইরের খাতে নিট এফডিআই ২০ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে ২৮০ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এতে অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ কমলেও অন্যান্য খাতে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

ইনভেস্ট বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে বিনিয়োগের উপযোগী করে তোলা। নাহিয়ান রহমান রচি জানান, এক দশকের বেশি সময় ধরে বিলম্বিত চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলের উন্নয়নকাজ এখন এগোচ্ছে। ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এ অঞ্চলকে ঘিরে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ইনভেস্ট বাংলাদেশের প্রকাশিত ১৮০ দিনের অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ পর্যন্ত অর্জন ও বাকি কাজের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে বাস্তব বিনিয়োগ, চালু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থানে রূপান্তর করতে সংস্থাটির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন